‘বসতঘরে অবৈধ অস্ত্র ও মালামাল আছে, আমরা তল্লাশি করব। এর আগে মূল্যবান জিনিসপত্র নিজেদের হেফাজতে নিয়ে নিন।’ গভীর রাতে বাড়িতে ঢুকে এভাবেই কথা বলছিলেন একদল ডাকাত। বিশ্বাস করে নিজের ঘর তল্লাশির অনুমতি দেন বাড়ির মালিক। এরপরই অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ঘরের মালামাল লুট করা হয়।

গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পাগলীর বিল এলাকায় নুরুল আমিনের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। মুখোশ পরা পাঁচ থেকে ছয়জনের অস্ত্রধারী ডাকাত দল তাঁর ঘর থেকে নগদ এক লাখ সাত হাজার টাকা ও দেড় ভরি স্বর্ণালংকার লুট করেছে বলে তাঁর অভিযোগ।

নুরুল আমিন চট্টগ্রাম শহরে মাছ ও মুরগির খাদ্যের ব্যবসা করেন। ঘটনার পর ডাকাত দল সাদা রঙের একটি মাইক্রোবাসে পালিয়ে গেছে বলে তাঁর অভিযোগ। জানতে চাইলে মুঠোফোনে তিনি মুক্তকণ্ঠকে বলেন, রাত সাড়ে তিনটার দিকে বাড়ির প্রধান ফটকে টোকার শব্দ শুনে তিনি শোবার ঘর থেকে বের হন। পরে করিডরে পাঁচ থেকে ছয়জন সশস্ত্র ব্যক্তিকে দেখতে পান। তাঁরা নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে বাড়িতে অবৈধ অস্ত্র ও মালামাল থাকার কথা বলেন। পরে মূল্যবান জিনিসপত্র নিজেদের হেফাজতে নিতে বলেন।

নুরুল আমিন বলেন, তাঁদের কথায় বিশ্বাস করে তিনি আলমারি খুলে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার বের করে আনেন। এরপর অস্ত্রধারীরা তাঁকে ও পরিবারের সদস্যদের একটি কক্ষে নিয়ে আটকে রাখেন। আটকে থাকা অবস্থায় কক্ষের দরজার ফাঁক দিয়ে তিনি দেখতে পান, বাড়ির প্রধান ফটক ভাঙা। বাইরে আরও দুই থেকে তিনজন মুখোশ পরা সশস্ত্র ব্যক্তি অবস্থান করছেন।

নুরুল আমিন আরও বলেন, কিছুক্ষণ পর অস্ত্রধারীরা তাঁদের কক্ষে এসে নিজেদের হেফাজতে নেওয়া টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে যান। পরে সবাই বাড়ি থেকে বের হয়ে সাদা রঙের একটি মাইক্রোবাসে করে পালিয়ে যান।

আজ শনিবার বিকেল সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে ছিল। পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। জানতে চাইলে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফুর রহমান বলেন, ডাকাতির অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি দল পাঠানো হয়েছে। তাঁরা বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করছেন। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।