লক্ষ্মীপুরের কুশাখালী ইউনিয়ন যুবদলে কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে বিতর্কের অবসান নেই। এক মাসের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো এই ইউনিয়ন কমিটির ১৮ নেতা পদত্যাগ করেছেন। তাদের অভিযোগ, নতুন কমিটিতেও টাকার বিনিময়ে পদ বণ্টন এবং আওয়ামী লীগের কর্মীসহ বিতর্কিত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

শনিবার (২৯ আগস্ট) চন্দ্রগঞ্জ থানা যুবদলের শীর্ষ নেতাদের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়া হয়। দলীয় সূত্র জানায়, গত ২৮ আগস্ট শুক্রবার কেন্দ্রীয় অনুমোদনক্রমে কুশাখালী ইউনিয়ন যুবদলের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে রফিক উল্যাকে আহ্বায়ক ও মাসুদুর রহমান মাসুদকে সদস্য সচিব করে ৩১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। চন্দ্রগঞ্জ থানা কমিটির আহ্বায়ক এনায়েত উল্যা, যুগ্ম আহ্বায়ক এম আবদুল খালেক ও সদস্য সচিব আবদুল মুকিত সোহেল এ কমিটি অনুমোদন করেন। তবে এই কমিটিতে ১২ জনকে যুগ্ম আহ্বায়ক মনোনীত করায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এরপর ইউনিয়ন যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুর রশিদ, মো. জাহাঙ্গীর, এমরান হোসেন, রাজু হোসেন, খুরশিদ আলম, দিদারুল আলম, আজিম উদ্দিন বাবলুসহ মোট ১৮ নেতা পদত্যাগ করেন।

এটি দ্বিতীয়বারের মতো কমিটি নিয়ে সংঘাত। এর আগে ২৬ জুলাই কুশাখালী ইউনিয়ন যুবদলের ৩১ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। সেই কমিটিতে আবদুর রশিদ আহ্বায়ক ও মাসুদুর রহমান মাসুদ সদস্য সচিব ছিলেন। কিন্তু যুগ্ম আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম ও হারুনুর রশিদসহ ১৬ নেতা পদত্যাগ করেন। তারা অভিযোগ করেন, টাকার বিনিময়ে প্রবাসীদের মাধ্যমে কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং প্রত্যাশিত পদ না পাওয়ায় তারা পদত্যাগ করেছেন। কমিটির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবই বিদেশ থেকে এসে কমিটি নিয়েছেন বলেও দাবি ওঠে। এসব বিতর্কের পরিপ্রেক্ষিতে ২৮ জুলাই কেন্দ্র থেকে প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে ওই কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।

পদত্যাগ করা যুগ্ম আহ্বায়ক রফিক উল্যা তখন দাবি করেছিলেন, তাকে আহ্বায়ক করার কথা বলে ২ লাখ টাকা নিয়েছেন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও চন্দ্রগঞ্জ থানা যুবদলের নেতারা। এজন্য তিনি পদত্যাগ করেছেন। যদিও এখন নতুন কমিটিতে তাকে আহ্বায়ক করা হয়েছে।

যুবদল কর্মী ফারুক হোসেন ও ইমন জানান, আমাদের ইউনিয়নে যুবদল নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই। যে বেশি টাকা দিতে পারে তাকেই পদ দেওয়া হয়। কমিটি ঘোষণা, পদত্যাগ, বিলুপ্তের পর আবার নাটকীয়ভাবে নতুন কমিটি হয়েছে। এ অবস্থায় আমরা বিভ্রান্তিতে আছি।

বিষয়টি নিশ্চিত করে চন্দ্রগঞ্জ থানা যুবদলের আহ্বায়ক এনায়েত উল্যা বলেন, নতুন কমিটির যারা পদত্যাগ করেছেন, তাদের নিয়ে আমরা বসব। মূলত সামনে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে বিএনপি নেতাদের দ্বন্দ্বের কারণে এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। টাকার বিনিময়ে কমিটি করার অভিযোগ সত্য নয়.