‘বুধবার ছেলেটার জ্বর হয়েছিল। বৃহস্পতিবার ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলাম। ডাক্তারের পরামর্শে বাড়িতেই রাখলাম। এরপর কী থেকে কী হয়ে গেল, কিছুই বুঝতে পারলাম না। মাত্র দুই দিনের জ্বরে ছেলেটা মারা গেল, এই শোক আমি ক্যামনে সইব।’
কথাগুলো বলছিলেন মাহবুব আলম (৫৫)। তিনি চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার জুলধা ইউনিয়নের ১ নম্বর ডাঙ্গারচর ওয়ার্ডের এবাদুল্লাহ বাপের বাড়ি এলাকার বাসিন্দা। গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে তাঁর বড় ছেলে রিশাত হোসেনের (২৩) মৃত্যু হয়েছে। রিশাত সম্প্রতি বিয়ে করেছেন। তাঁর স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা। অনাগত সন্তানের জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা করে রেখেছিলেন তিনি। তবে সে পরিকল্পনা আর বাস্তবায়ন হয়নি।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তিন ভাইয়ের মধ্যে রিশাত সবার বড়। তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ওয়েল্ডার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। চলতি বছর জানুয়ারিতে তিনি প্রতিষ্ঠানটির সেরা কর্মীর পুরস্কারও পান। গত বছর ডিসেম্বরে তাঁর বিয়ে হয়। তাঁর অনাগত সন্তানের জন্মের সম্ভাব্য তারিখ আগামী ১২ সেপ্টেম্বর। এ কারণে তিনি পবিত্র ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় পাওয়া বোনাসের টাকা জমিয়ে রেখেছিলেন। এ টাকা দিয়ে সন্তানের আকিকা দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাঁর।
রিশাতের বাবা মাহবুব আলম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, গত বুধবার তাঁর ছেলের হালকা জ্বর হয়। পরদিন উপজেলার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। চিকিৎসক রিশাতকে টাইফয়েড ও ডেঙ্গু পরীক্ষা করার পরামর্শ দেন। এরপর পরীক্ষায় ডেঙ্গু ধরা পড়ে। পরে চিকিৎসক ইনজেকশন ও স্যালাইন দিয়ে রিশাতকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।
মাহবুব আলম বলেন, চিকিৎসকের কাছ থেকে বাড়িতে আনার পর ওই দিন রাতে আবার খিঁচুনি দিয়ে জ্বর শুরু হয়। একপর্যায়ে রিশাত এলোমেলো কথা বলতে শুরু করেন। পরে তাঁকে চট্টগ্রাম শহরের হাসপাতালে নেওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হন পরিবারের সদস্যরা। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই রিশাত মারা যান। গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে তাঁর দাফন হয়েছে।
রিশাতের চাচাতো ভাই ইরফাত বিন নুরুল বলেন, ‘রিশাত এলাকায় নানা মানবিক কাজে যুক্ত ছিলেন। তিনি এভাবে মারা যাবেন আমরা কেউ বিশ্বাসই করতে পারছি না। তাঁর মৃত্যুতে এলাকার সবাই শোকাহত।’