বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার আব্দুল জব্বার ব্যাপারী (৭০) আর মাছের ব্যবসা করেন না। বয়সের কারণে এখন তিনি অন্যের মাছ কেটে দেন। সপ্তাহে চার দিন তিনি কচুয়া হাট ও খানজাহান আলী মাজারসংলগ্ন দরগারহাট বাজারে বসেন। এই কাজ থেকে যে সামান্য আয় হয়, তা দিয়েই চলে তার ৮ সদস্যের সংসার। সেই সঙ্গে সন্তানদের পড়াশোনার খরচও মেটান।
প্রায় ১০ বছর ধরে তিনি এই কাজ করছেন। আগে তিনি নিজে মাছের ব্যবসা করতেন। কিন্তু শরীরে শক্তি কমে যাওয়ায় এখন আর ভারী কাজ করতে পারেন না। তাই মাছ কাটার কাজ বেছে নিয়েছেন।
আব্দুল জব্বার বলেন, "আমার বয়স এখন ৭০ বছর। আগে মাছের ব্যবসা করতাম। তখন শরীরে শক্তি ছিল, অনেক পরিশ্রম করতে পারতাম। এখন বয়স হয়েছে, আগের মতো ভারী কাজ করতে পারি না। তাই মাছ কাটার কাজ করছি। সপ্তাহে চার দিন কচুয়া হাট আর দরগারহাটে বসি। সকাল থেকে মাছ কাটতে হয়। দিন শেষে যত টাকা পাই, তা দিয়েই সংসার চালাই। আমার সংসারে আটজন মানুষ। ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনার খরচও আছে। আয় কম হলেও কাজ না করলে সংসারে চুলা জ্বলবে না।"
তিনি আরও বলেন, "বয়স হয়ে গেছে, শরীরেও নানা কষ্ট আছে। তারপরও বসে থাকার সুযোগ নেই। যতদিন শরীরে শক্তি আছে, ততদিন কাজ করে যেতে চাই। আমার একটাই চাওয়া—ছেলে-মেয়েরা যেন লেখাপড়া করে ভালোভাবে দাঁড়াতে পারে।"
কচুয়া হাটের এক মাছ ব্যবসায়ী হারুন শেখ বলেন, "জব্বার ব্যাপারী দীর্ঘদিন ধরে এই হাটে মাছ কাটেন। বয়স ৭০ বছর হলেও নিয়মিত বাজারে আসেন। শরীরে কষ্ট থাকলেও সংসারের জন্য তাকে কাজ করতে হয়।"
দরগারহাট বাজারের এক ক্রেতা মুন্না শেখ বলেন, "অনেক বছর ধরে তাকে মাছ কাটতে দেখছি। বয়স হয়েছে, কিন্তু এখনো কাজ করে যাচ্ছেন। মাছ কাটার বিনিময়ে সামান্য টাকা পান, সেই টাকা দিয়েই পরিবারের খরচ চালান।"
স্থানীয় বাসিন্দা সূর্য চক্রবর্তী বলেন, "জব্বার ব্যাপারীর মতো অনেক বয়স্ক মানুষ এখনো অভাবের কারণে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। বয়সের কারণে তাদের বিশ্রাম নেওয়ার কথা থাকলেও সংসারের প্রয়োজনে তাদের কাজ করতে হচ্ছে। সমাজের বিত্তবান মানুষ ও জনপ্রতিনিধিরা এ ধরনের অসহায় শ্রমজীবী মানুষের পাশে দাঁড়ালে তাদের কষ্ট কিছুটা কমবে।"