চলতি অর্থবছরে দেশের সকল স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করতে বাজেটে ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।

নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী জানান, "স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিতে ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ করা হয়েছে। পুরো নির্বাচনি প্রক্রিয়া নির্বাচন কমিশনের অধীনেই পরিচালিত হবে। কমিশনই নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা করবে এবং ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ, প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও পোলিং কর্মকর্তা নিয়োগসহ আনুষঙ্গিক সব কার্যক্রম সম্পন্ন করবে।"

নির্বাচনের সময়সূচি ও অর্থায়ন সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, "নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি শেষ হওয়ার পর স্থানীয় সরকার বিভাগ ও অর্থ বিভাগ পরস্পরের সঙ্গে আলোচনা করবে। নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ ও অন্যান্য বিষয় বিবেচনায় নিয়ে কোন নির্বাচন আগে এবং কোনটি পরে অনুষ্ঠিত হবে, সে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।"

একই সাথে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ব্যবহারের বিধান বাতিল করা হয়েছে বলেও জানান মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, "আগে দলীয় মনোনয়ন ও জাতীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতো। এখন এই বিধান ও প্রতীক ব্যবস্থা বিলুপ্ত করা হয়েছে। ফলে স্থানীয় সরকারের পাঁচ ধরনের নির্বাচন সাধারণ প্রতীকে এবং নির্দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হবে।" তবে রাজনৈতিক দলগুলো তাদের রাজনৈতিক অবস্থান অনুযায়ী বিভিন্ন প্রার্থীকে সমর্থন দিতে পারবে বলেও জানান তিনি।

রাজনৈতিক দলগুলোর প্রস্তুতির খবর তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, "বিএনপির জেলা পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিয়মিত বৈঠক করছেন। প্রতি সপ্তাহের শুক্রবার ও শনিবার গুলশান কার্যালয়ে জেলাভিত্তিক নেতাদের ডেকে এসব বৈঠক করা হচ্ছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনসহ বিভিন্ন বিষয়ে সেখানে দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।"

প্রার্থী নির্বাচন ও সমর্থন সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে স্থানীয় নেতৃত্বের ভূমিকা তুলে ধরে মীর শাহে আলম বলেন, "স্থানীয় পর্যায়ে উপজেলা ও জেলা বিএনপি সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রার্থীদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ ও উপজেলা পরিষদ—প্রতিটি নির্বাচনে কাকে দলীয়ভাবে সমর্থন দেওয়া হবে, তা স্থানীয় নেতারাই নির্ধারণ করবেন।"