রংপুর নগরীর কামালকাছনা মাছুয়াপাড়ায় জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ তার পরিবারের চার সদস্যের খুনের মামলায় আসামিদের আইনি সহায়তা না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে জেলা আইনজীবী সমিতি। শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে সমিতির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক আফতাব উদ্দিন এ সিদ্ধান্তের বিষয়টি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, "আমরা চাই সত্যিকার অর্থে যারা দোষী, তারা যেন শাস্তি পায়। এটাকে রাজনীতিকরণের চেষ্টা করা হচ্ছে। কোনোভাবে যেন রাজনীতিকরণ না করা হয়। তদন্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তো বলা যাবে না তদন্ত সঠিক হচ্ছে কি না। তদন্ত কাজের জন্য আমাদের আরও একটু অপেক্ষা করতে হবে।"

আইনজীবীদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযোগের প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান আফতাব উদ্দিন। তিনি বলেন, "আমাদের বিরুদ্ধে অনেকে অভিযোগ করেন–আইনজীবীরা টাকা পেলে সব কিছু করতে পারেন। এজন্য আমরা আইনজীবী সমিতি থেকে সিদ্ধান্ত নিয়েছি–যদি কোনো তথ্য-উপাত্ত না পাই, তাহলে আপাতত এই মামলায় যারা গ্রেপ্তার হবে তাদের পক্ষে আমরা আইনিভাবে লড়ব না।"

পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত এক-দুই সপ্তাহ থেকে এক-ছয় মাস পর্যন্ত কার্যকর থাকতে পারে বলে জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, "পারিপার্শ্বিকতার ওপর বিবেচনা করে আমরা এই সিদ্ধান্ত এক-দুই সপ্তাহ থেকে এক-ছয় মাস পর্যন্ত কার্যকর রাখতে পারি। আমরা বার্তা দিতে চাই–আইনজীবীরা টাকার বিনিময়ে অন্যায়কে সমর্থন করে এই বক্তব্যটা সঠিক নয়। আমরা চাই গণপতি চক্রবর্তীর পরিবারের হত্যাকান্ডের সঠিক বিচার হোক। আইনজীবি সমিতির পক্ষ থেকে আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করব। এই মামলাটা যদি হাইকোর্টেও যায় আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে সেখানেও সর্বাত্মক সহযোগিতা করব। আমরা চাই ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হোক।"

গত শনিবার (২৩ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে কামালকাছনা মাছুয়াপাড়ায় নিজ বাসা থেকে গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী বালা, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী ও ছেলে আয়ুস চক্রবর্তীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পরদিন রোববার সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই দিন বিকেলে নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে কোতয়ালী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই দিন রাতে গ্রেপ্তারকৃত দুজন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন এবং পরে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

বর্তমানে মামলাটির তদন্তভার কোতয়ালী থানা থেকে সরিয়ে মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) হস্তান্তর করা হয়েছে। ডিবি'র ওসি জিনাত আলী এখন এ মামলার নতুন তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সংবাদ সম্মেলনে রংপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আইনজীবী মাহফুজ উন নবী চৌধুরী ডনসহ সমিতির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।