করোনাভাইরাস মহামারির প্রথম ঢেউয়ের সময় দেশব্যাপী অক্সিজেন সংকট মোকাবিলায় এগিয়ে আসে আবুল খায়ের গ্রুপ (একেজি)। শিল্পকারখানার উৎপাদিত অক্সিজেনকে মেডিকেল গ্রেডে রূপান্তর করে এবং নিজস্ব পরিবহন নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানটি সারাদেশে অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিত করে।
২০২০ সালের এপ্রিল মাসে করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসায় অক্সিজেনের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। তখন দেশের বাণিজ্যিক অক্সিজেন সরবরাহকারী বৃহত্তম প্রতিষ্ঠানের দৈনিক সক্ষমতা ছিল ১২০ টন। পার্শ্ববর্তী দেশগুলো রপ্তানি বন্ধ ঘোষণা করলে স্থানীয় চাহিদা মেটাতে তীব্র সংকট দেখা দেয়। একেকটি সাধারণ সিলিন্ডার ১০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছিল, যা সাধারণ মানুষের পক্ষে স্বল্পসাধ্য ছিল। এসব পরিস্থিতিতে একেএস স্টিল কারখানার দৈনিক ২৬০ টন অক্সিজেন উৎপাদন সক্ষমতার প্ল্যান্ট জনস্বার্থে চালু করা হয়। প্রয়োজনে স্টিল উৎপাদন বন্ধ রেখেও অক্সিজেন সরবরাহ চলবে বলে প্রতিষ্ঠানটি ঘোষণা দেয়। শিল্পজাত অক্সিজেন চিকিৎসার উপযোগী মেডিকেল গ্রেডে রূপান্তরে প্ল্যান্টে নতুন ইউনিট স্থাপন করা হয়, যার সব খরচ বহন করে কেজি।
অক্সিজেনের কাঠামোগত সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠানটি দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ২০টি হাসপাতালে কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা নির্মাণ করে। পাশাপাশি অধিক আক্রান্ত ১৫টি জেলায় অক্সিজেন ব্যাংক স্থাপন করা হয়, যা নীলফামারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। আশপাশের এলাকার রোগীরাও এই ব্যাংকগুলো থেকে অক্সিজেন নিতে পারত। আইসিইউতে রুমের সংকট দেখা দিলে সেখানে অতিরিক্ত ইউনিট তৈরি করা হয়। সাধারণ মানুষের জন্য বিশেষ হটলাইন চালু করে ফোন পেয়েই রোগীর কাছে সিলিন্ডার পৌঁছে দেওয়া ও রিফিল করার ব্যবস্থা করা হয়। চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের কারখানা থেকে শুরু করে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত নিজস্ব পরিবহন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সিলিন্ডার পৌঁছে দেওয়া হয়।
প্রারম্ভিক পর্যায়ে হাজার হাজার সিলিন্ডার সরবরাহ ও খালি সিলিন্ডার রিফিলের কাজে কেজির কর্মীরা নিজেদের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে দিনরাত কাজ করেন। কোয়ারেন্টিন ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে তারা পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকেন; কেউবা সদ্য জন্ম নেওয়া শিশু বা বৃদ্ধ বাবা-মা রেখে কাজে যোগ দেন। শুধু অক্সিজেন নয়, কর্মহীন মানুষের দুয়ারে খাবার পৌঁছে দেওয়ারও উদ্যোগ নেওয়া হয়। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের আগেই এই লজিস্টিক ও অবকাঠামোগত প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ায় দ্বিতীয় ঢেউয়ে অক্সিজেন সংকট তীব্র রূপ না নেয়।