লালমনিরহাট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল শিশু ধর্ষণ মামলায় আসামি সুজন মিয়াকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। একইসাথে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ট্রাইব্যুনালের বিচারক নিত্যানন্দ সরকার এ রায় ঘোষণা করেন।

সাজাপ্রাপ্ত আসামি সুজন মিয়া (৩৮) লালমনিরহাট সদর উপজেলার তালুক খুটামারা এলাকার সাইদুল ইসলামের ছেলে।

আদালত ও মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত ২০১৯ সালের ৩১ মে বিকেলে ৮ বছর বয়সী এক শিশু তার মায়ের সহযোগিতায় লালমনিরহাট আদালত পাড়ায় বাসের জন্য অপেক্ষা করছিল। এই সময় আত্মীয় সুজন মিয়া শিশুটিকে আদালত চত্বর ঘুরে দেখার কথা বলে এর পেছনের ভুট্টাক্ষেতে নিয়ে যায়। সেখানে সুজন শিশুটিকে ধর্ষণ করে পালিয়ে যায়। পরে শিশুটি কান্নাকাটি করতে করতে মায়ের কাছে ফিরলে আদালত চত্বরে শোরগোল পড়ে।

উক্ত ঘটনার প্রতিবাদে শিশুটির মা বাদী হয়ে লালমনিরহাট সদর থানায় সুজন মিয়ার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘদিন ধরে চলমান শুনানির পর আজ আসামির সম্মুখে রায় ঘোষণা করা হয়।

রায়ে আদালত শিশু ধর্ষণের দায়ে সুজন মিয়ার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নির্ধারণ করেন। জরিমানার অর্থ ক্ষতিপূরণ হিসেবে শিশুর পরিবারকে প্রদানের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মামলার রায়ের বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (স্পেশাল পিপি) অ্যাডভোকেট লুৎফর রহমান বলেন, "এটি অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর ঘটনা ছিল। খোদ আদালত চত্বরের পাশ থেকে শিশুকে তুলে নিয়ে এমন পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়েছিল। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আজ আদালত আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন।"