পিরোজপুরে বিদ্যুৎ বিল অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়া এবং ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক গ্রাহকের দাবি, আগের তুলনায় বর্তমানে বিল দ্বিগুণ পর্যন্ত বেড়েছে। নিয়মিত বিদ্যুৎ না থাকায় দৈনন্দিন জীবন বিপর্যস্ত হওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত বিলের আর্থিক চাপেও তারা হিমশিম খাচ্ছেন।

পিরোজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন জেলায় মোট ৫ লাখ ৭ হাজার ৪৪০ জন গ্রাহক রয়েছেন। তাদের মধ্যে একটি বড় অংশ সাম্প্রতিক সময়ে বিল ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করছেন।

জেলার জিয়ানগর উপজেলার পাড়েরহাট ইউনিয়নের টগড়া গ্রামের চা-দোকানি মো. বাদশা হাওলাদার জানান, কয়েক মাসের ব্যবধানে তাঁর দোকানের বিদ্যুৎ বিল ব্যাপক হারে বেড়েছে। দুই-তিন মাস আগে মাসে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা বিল আসলেও এখন তা ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা দাঁড়িয়েছে। তিনি আরও জানান, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৬-৭ ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ পাওয়া যায় না। বাড়তি বিলের বিষয়টি নিয়ে বিদ্যুৎ অফিসে অভিযোগ করলেও এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান পাননি তিনি।

একই এলাকার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন বাবুও অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়ে অভিযোগ তোলেন। তিনি জানান, আগে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহার করতেন, বর্তমানে তার চেয়ে বেশি ব্যবহার না করলেও বিল অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গেছে। নিয়মিত বিদ্যুৎ না থাকার পরও অতিরিক্ত বিল আসায় তিনি আর্থিকভাবে চাপে পড়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে অতিরিক্ত বিলের কারণ নির্ধারণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

পিরোজপুর পৌরসভার মাছিমপুর এলাকার ক্ষুদ্র মাছ ব্যবসায়ী মো. জাকির হোসেন জানান, বিদ্যুৎ না থাকার কারণে তাঁদের অনেক সমস্যা হচ্ছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র ৪-৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে। তিন-চার মাস আগে যেখানে ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা বিল আসত, এখন ২ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা বিল আসে। তিনি বলেন, আমি গরিব মানুষ, এত টাকা বিল কীভাবে দেব?

পৌরসভার নরখালী এলাকার চাকরিজীবী মো. তৌহিদুল ইসলাম জানান, আগে মোটামুটি নিয়মিত বিদ্যুৎ পাওয়া গেলেও বর্তমানে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ থাকে না। বিশেষ করে রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় ঠিকমতো ঘুমানোও যায় না। তিনি জানান, আগে ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা বিল এলেও বর্তমানে ১ হাজার ৯০০ থেকে ২ হাজার টাকা বিল আসছে। বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ করার পর মিটার পরিবর্তন করা হলেও অতিরিক্ত বিল আসা বন্ধ হয়নি।

এই ধরনের অভিযোগ আরও একাধিক গ্রাহকের। তাদের দাবি, বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার পাশাপাশি অস্বাভাবিক বিলের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

অতিরিক্ত বিলের অভিযোগের বিষয়ে পিরোজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মো. আলতাপ হোসেন জানান, নির্দিষ্ট কোনো গ্রাহকের বিল বেশি আসার অভিযোগ থাকলে তা জানালে বিষয়টি পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় সংশোধন করা হবে। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ বিল বেশি বা কম করার কোনো সুযোগ নেই।

লোডশেডিং প্রসঙ্গে তিনি জানান, গত সপ্তাহে সারা দেশেই লোডশেডিং ছিল। এলএনজি টার্মিনালে সমস্যা হওয়ায় পাইপলাইনে বিদ্যুৎ সরবরাহে কিছুটা বিঘ্ন ঘটে। তবে ১৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ ছিল না—এমন অভিযোগ সঠিক নয় বলে দাবি করেন তিনি। তিনি জানান, এক ঘণ্টা পর পর লোডশেডিং দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পিরোজপুরে কোনো লোডশেডিং নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

গ্রাহকদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকার পরও বাড়তি বিল আসায় তাদের মধ্যে অসন্তোষ আরও বাড়ছে। তাই বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার পাশাপাশি অস্বাভাবিক বিলের অভিযোগগুলো যাচাই করে প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।