রাজবাড়ী শহরের কাপড় বাজারে এক নারী উদ্যোক্তাকে পুলিশের সামনে লাথি ও ধাক্কা দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও এটি জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযান নয় বলে স্পষ্ট করেছে সংস্থাটি। রোববার (৩০ আগস্ট) প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে অধিদপ্তর এই তথ্য নিশ্চিত করে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৯ আগস্ট বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর বাজার এবং ৩০ আগস্ট কালুখালী উপজেলার মৃগী বাজারে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর আওতায় নিয়মিত অভিযান চালানো হয়েছে। এসব অভিযানে ভোক্তা-অধিকারবিরোধী কার্যক্রমের দায়ে প্রতিষ্ঠানগুলোকে জরিমানা করা হয়। তবে রাজবাড়ী সদর উপজেলার কাপড় বাজারের আস্থা বস্ত্রালয়কে কেন্দ্র করে যে ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে, তার সঙ্গে অধিদপ্তরের রাজবাড়ী জেলা কার্যালয় বা পরিচালিত কোনো অভিযানের সম্পর্ক নেই। এ ছাড়া ভিডিওতে থাকা নারী জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ করেননি।
বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন এই প্রচার থেকে বিরত থাকার জন্য সংস্থাটি সকলের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে। সঠিক তথ্যের জন্য অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ অনুসরণ করতেও আহ্বান জানানো হয়েছে।
মূল ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে রাজবাড়ী শহরের কাপড় বাজার এলাকায়। ভিডিওতে দেখা যায়, একজন নারী পুলিশ সদস্য জাকিয়া সুলতানাকে হাত ধরে নিয়ে যাচ্ছেন। এ সময় পেছনের এক যুবক তাকে লাথি মারেন। পরে আরেকজন যুবক লাথি মারলে অন্যজন তাকে ধাক্কা দেন। ‘আস্থা পোশাক শিল্প’ নামের প্রতিষ্ঠানের মালিক জাকিয়া সুলতানার দাবি, কর্মচারীকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বিরোধ সূত্রপাত হয়। পরে ব্যবসা বন্ধ রাখার হুমকি দেওয়া হলে তিনি হামলার শিকার হন।
অন্যদিকে, রাজবাড়ী বাজার কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক কাজী বেনজীর আহমেদ বলেন, ওই নারী কয়েকশ মানুষ নিয়ে ব্যবসায়ীদের ওপর হামলা করেছেন। পরে ব্যবসায়ীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. শাসমুল হক বলেন, কাপড় বাজারের ঘটনায় কোনো পক্ষই লিখিত অভিযোগ দেয়নি। পুলিশের উপস্থিতিতে নারীকে লাঞ্ছিত করার ভিডিও সম্পর্কে তিনি বলেন, পুলিশ তখনও ভিডিওটি দেখেনি। ভুক্তভোগী নারী অভিযোগ দিলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।