রংপুরে একই পরিবারের চারজনকে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডোপ টেস্টের জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। নিরাপত্তাঝুঁকি ও মবের আশঙ্কায় তাঁদের বাইরে না এনে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে গিয়ে নমুনা নেওয়া হয়।
আজ রোববার বেলা দেড়টার দিকে ডিবি পুলিশের একটি দল রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে যায়। এ সময় তাদের সঙ্গে ছিলেন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ল্যাবের একজন টেকনোলজিস্ট ও একজন সহকারী।
.পরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মহানগর ডিবির পরিদর্শক জিন্নাত আলী বলেন, আসামিদের ডোপ টেস্টের আবেদন আদালত মঞ্জুর করার পর কারাগার থেকে তাঁদের মূত্রের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এ কারণে রংপুর মেডিকেল কলেজের ল্যাবের টেকনোলজিস্টদের কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। নিরাপত্তার কারণে আসামিদের কারাগার থেকে বাইরে নিয়ে আসা হয়নি।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের টেকনোলজিস্ট মোহাম্মদ আশরাফ জানান, কারাগারের ভেতর থেকে দুই আসামির নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবরেটরিতে (গবেষণাগারে) পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেখানে পরীক্ষা করা হবে।
.পুলিশের তদন্ত নিয়ে ১৯ প্রশ্ন নাগরিক কমিটির, আসামিদের পাশে না থাকার ঘোষণা আইনজীবীদের.ডোপ টেস্টের জন্য কারাগার থেকে আসামিদের নমুনা সংগ্রহের প্রশ্নে রংপুর মহানগর গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তীও নিরাপত্তা ও মবের আশঙ্কার কথা বলেছেন। আজ সন্ধ্যা ছয়টার দিকে মুঠোফোনে মুক্তকণ্ঠকে তিনি বলেন, আসামিদের কারাগার থেকে বাইরে নিয়ে আসা হলে তাঁদের ওপর হামলা বা মবের সৃষ্টি হতে পারে। এ কারণে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষকে অনুরোধ করা হয়েছিল। পরে কলেজের টেকনোলজিস্টকে সঙ্গে নিয়ে কারাগারের ভেতরে গিয়ে আসামিদের ডোপ টেস্টের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। মূলত আসামিরা মাদকাসক্ত কি না, সেটা পরীক্ষার জন্যই ডোপ টেস্ট করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
.মাদকাসক্তির কারণেই এই হত্যাকাণ্ড: ত্রাণমন্ত্রী.২২ আগস্ট রাতে মাছুয়াপাড়ায় নিজ বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী (২৫) ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তীর (১২) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, চারজনকেই শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।
এ ঘটনায় গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে একই এলাকার কানু দাসের ছেলে মুগ্ধ দাস ও বিনয় দাসের ছেলে সিদ্ধার্থ দাসকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তার দুজন আদালতে স্বেচ্ছায় হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।
পুলিশের ভাষ্য, চারজনকে হত্যার আগে আসামিরা মাদকদ্রব্য সেবন করেছিলেন। তাঁরা বর্তমানে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে।