রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে ছিনতাইকারীর টানে রিকশা থেকে পড়ে প্রধান শিক্ষিকা রনজিলা পারভীন নিহত হওয়ার ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-২। তবে ছিনতাইকালে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের সঙ্গে র্যাবের উদ্ধার করা বাইকটির রং ও মডেলে স্পষ্ট অমিল দেখা দেওয়ায় পুরো অভিযান এবং আসামি শনাক্তকরণ নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে।
রোববার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর বসিলায় র্যাব-২ ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মূল সন্দেহভাজন হিসেবে পনি গাজী ও তার সহযোগী সেড্রিককে গ্রেপ্তারের তথ্য জানান ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল হাসান। এ সময় সাংবাদিকদের সামনে হাজির করা হয় গ্রেপ্তার দুজনকে।
কিন্তু সংবাদ সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের সামনে আনার পর পনি গাজী চিৎকার করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। তিনি বলেন, ‘ছিনতাইয়ের সিসিটিভি ফুটেজে বাইকের রং নীল, অথচ আমার বাইক রুপালি ও কালো। আমাকে জোর করে ধরে আনা হয়েছে।’
অভিযুক্তের এই দাবির সূত্র ধরে অনুসন্ধানে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর জানায়, গত শনিবার ভোরে বগুড়ার বাগবাড়ী বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রনজিলা পারভীন স্বামীর সঙ্গে রিকশায় যাওয়ার সময় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ছিনতাইকারীর কবলে পড়েন।
বাইক আরোহী ব্যাগ টান দিলে তিনি নিচে ছিটকে পড়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান এবং পরে হাসপাতালে মারা যান। ঘটনার পর প্রকাশিত সিসিটিভি ফুটেজে ছিনতাইকারীদের নীল রঙের একটি বাইক ব্যবহার করতে দেখা যায়।
অন্যদিকে, পূর্ব তেজতুরী বাজার থেকে উদ্ধার দেখানো র্যাবের বাইকটি রুপালি ও কালো রঙের ‘ইয়ামাহা আর১৫’। চারুকলা অনুষদের শিক্ষক দীপ্তি দত্ত সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জানান, রাস্তার অন্য আলো বা প্রতিফলনের কারণে নীল রং কখনো রুপালি-কালো দেখানোর সুযোগ নেই।
পাশাপাশি মোটরসাইকেল বিশেষজ্ঞরা সিসিটিভি ফুটেজের বাইকটি ‘সুজুকি জিক্সার এসএফ ২০২০’ মডেলের বলে শনাক্ত করেছেন, যা র্যাবের উদ্ধার করা ‘ইয়ামাহা’ বাইকের গঠন ও সাইলেন্সর পাইপ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।
মোটরসাইকেল সংশ্লিষ্টদের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি বলছে, ছিনতাইয়ে ব্যবহার হওয়া সুজুকি জিক্সার মোটরসাইকেলটি কালো বা নেভি ব্লু রঙের হতে পারে। আর উদ্ধার করা ইয়ামাহা মোটরসাইকেলটির সামনের বডি কিটের অনেকটাই সাদা (পার্ল) রঙের।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে র্যাব-২ অধিনায়ক নয়মুল হাসান অবশ্য স্বীকার করেন, মামলাটি অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে হওয়ায় এই দুজনকে ‘সন্দেহভাজন’ হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্য, সিসিটিভি ফুটেজে চালকের দৈহিক গঠন, ঘটনার সময় ওই এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্কের উপস্থিতি এবং ১৫ জন পুলিশ সোর্সের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পনি গাজীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব জানায়, পনি গাজী একজন পেশাদার অপরাধী এবং তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় চুরি, ছিনতাই ও মাদকের ১৩টি মামলা রয়েছে। তবে বাইকের রং ও মডেলের অমিল বিষয়ে পরে বক্তব্য জানতে র্যাব কর্মকর্তা নয়মুল হাসানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।