সৌদি আরবের তায়েফ শহরের হাওয়াইয়া এলাকায় রোববার (৩০ আগস্ট) ভোর চারটার দিকে এক বাংলাদেশি প্রবাসীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। নিহত ব্যক্তি হলেন ৩৮ বছর বয়সী কামরুল জামান।

স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, কামরুল সৌদি আরবের একটি সুপার মার্কেটে কর্মরত ছিলেন। রোববার ভোরে ডিউটি শেষ করে তিনি বাড়ি ফিরছিলেন। পথে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলার সময় হঠাৎ এক সৌদি তরুণ তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। প্রাণ বাঁচাতে কামরুল দৌড়ে ওই সুপার মার্কেটের ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে থাকা অন্য দুই কর্মী আতঙ্কে পালিয়ে গেলেও সৌদি তরুণও ভেতরে ঢুকে কামরুলের ওপর পরপর তিন রাউন্ড গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গুলি করার পর ওই সৌদি তরুণ নিজের মাথায় গুলি করে আত্মহত্যা করেছে। তবে হামলার পেছনে কোনো নির্দিষ্ট কারণ কি না, তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। বিষয়টি তদন্তে নামেছে সৌদি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বিস্তারিত তথ্য তদন্ত শেষে প্রকাশ্যে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কামরুল জামান নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার কুতুবপুর গ্রামের খোরশেদ আলমের ছেলে। তার দেশে স্ত্রী ও দুই ছেলে সন্তান রয়েছে। জীবিকার তাগিদে প্রায় আড়াই বছর আগে তিনি সৌদি আরবে যান এবং সেখানকার আয়ে পরিবারের ভরণপোষণ করতেন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে দেশের স্বজনদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নিহতের বাবা খোরশেদ আলম বলেন, "ছেলের পাঠানো অর্থেই তাঁদের সংসারের খরচ চলত। ছেলের আয়ে পরিবারের সদস্যদের প্রয়োজন মিটত। এখন একমাত্র উপার্জনক্ষম ছেলেকে হারিয়ে পরিবারটি অনেকটা নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। ছেলের আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোক ও অনিশ্চয়তা।"

কুতুবপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবু নাসের চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, কামরুলের বাবা পেশায় কৃষক। রোববার বেলা ১১টার দিকে পরিবারের সদস্যরা তার মৃত্যুর খবর জানতে পারেন। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমেছে। হামলার কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কিছুই জানা যায়নি।