নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানায় পুলিশ হেফাজতে লকআপে থাকা ১০ আসামির ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ‘আজমিরী ওসমান’ নামে একটি ফেসবুক পেজে ভিডিওটি আপলোড করা হয়। থানার লকআপে থাকা অবস্থায় আসামিদের হাতে মোবাইল ফোন কীভাবে গেল—এ বিষয়ে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

শনিবার (২৯ আগস্ট) রাতে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ মহাসড়কের সাইনবোর্ড এলাকায় গ্র্যান্ড চাঁদনী রেস্টুরেন্টের বিপরীতে ঢাকামুখী প্রধান সড়ক থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ। নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের ব্যানারে মিছিলের প্রস্তুতি নেওয়ার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন আবরার আহম্মেদ (১৮), ইয়াসিন (১৮), রাব্বি (২০), শিমুল (২০), ফেরদৌস (১৮), পলক (১৭), আবু বকর (১৬), তানভীর (১৫), লিমন (১৭) ও নয়ন (১৮)। তাদের মধ্যে আবরার আহম্মেদ নারায়ণগঞ্জ সদর থানার পাইকপাড়া এলাকার বাসিন্দা। অপর নয়জন ফতুল্লা মডেল থানার বিসিক এলাকার বাসিন্দা বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ মহাসড়কের ভূইগড়-সাইনবোর্ড এলাকায় সরকারবিরোধী মিছিল করে নাশকতার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে—এমন তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার সন্ধ্যার পর থেকেই মহাসড়কের ভূইগড় ও সাইনবোর্ড এলাকায় পুলিশের একাধিক দল অবস্থান নেয়।

পরে রাতে সাইনবোর্ড এলাকায় গ্র্যান্ড চাঁদনী রেস্টুরেন্টের বিপরীতে ঢাকামুখী প্রধান সড়কে গ্রেপ্তার ব্যক্তিসহ আরও কয়েকজন জড়ো হন। পুলিশ তাদের ধাওয়া দিলে বেশির ভাগই দৌড়ে পালিয়ে যান। পরে ঘটনাস্থল থেকে ১০ জনকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়। তাদের বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক সংগঠনের কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে মামলা হয়েছে এবং রোববার (৩০ আগষ্ট) সকালে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

এবিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুব আলমের কাছে জানতে চাইলে তিনি মুক্তকণ্ঠকে বলেন, শনিবার রাতে সাইনবোর্ড এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের ব্যানারে মিছিল করার জন্য কিছু লোক একত্রিত হচ্ছিল। খবর পেয়ে আমরা সেখানে অভিযান চালিয়ে কয়েকজনকে আটক করি।

এ সময় কিছু লোক পালিয়ে যায়। পরে ১০ জনকে আটক করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক সংগঠনের কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং মামলা হয়েছে। সকালে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

ভাইরাল হওয়া ভিডিও প্রসঙ্গে ওসি বলেন, ভিডিওটি আমরা আপনাদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি এবং বিষয়টি যাচাই করে দেখছি। এটি আমাদের থানার ভেতরের ঘটনা কি না, কখন বা কীভাবে ভিডিওটি ধারণ করা হয়েছে এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজও পর্যালোচনা করা হচ্ছে। ভিডিওটি যদি আমাদের থানার হয়ে থাকে, তাহলে কীভাবে ঘটনাটি ঘটেছে, সেটিও তদন্ত করে দেখা হবে।

তবে ভিডিওটি ফতুল্লা থানার লকআপে ধারণ করা হয়েছে কি না এ বিষয়ে এখনই নিশ্চিত করতে রাজি হননি ওসি মাহাবুব আলম। তিনি বিষয়টি যাচাই করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ভিডিওতে থাকা ব্যক্তিরা কখন, কোথায় এবং কীভাবে মোবাইল ফোন ব্যবহার করে এটি ধারণ করেছেন, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে বলে জানান তিনি।

পুলিশ হেফাজতে থাকা আসামিদের হাতে মোবাইল ফোন পৌঁছানো এবং ভিডিও ধারণের সুযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে এরই মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। ভিডিওটির উৎস ও ধারণস্থল সম্পর্কে পুলিশের তদন্তের পরই বিষয়টি স্পষ্ট হবে।