ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগের বিস্তার রোধে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী আবদুল মঈন খান এ কথা জানান। তিনি মশা নিধনে ব্যবহৃত ওষুধের কার্যকারিতা বৃদ্ধি ও লার্ভা ধ্বংসের লক্ষ্যে গবেষণা ও কারিগরি সক্ষমতা জোরদারের বিষয়টি তুলে ধরেন।
রোববার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সভাকক্ষে ডেঙ্গু প্রতিরোধে গঠিত জাতীয় টাস্কফোর্স কমিটির জরুরি সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে মন্ত্রী এসব মন্তব্য করেন। সভায় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সভাপতিত্ব করেন। মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়।
মন্ত্রী ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ও গাজীপুরের মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় মশা নিয়ন্ত্রণের চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরেন। সীমিত সম্পদের মধ্যেও সিটি করপোরেশনগুলো সর্বাত্মকভাবে কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মশার লার্ভা যেখানে জন্ম নেয় সেসব স্থান চিহ্নিত করে পানি জমতে না দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। জাপানসহ বিভিন্ন উন্নত দেশের সহযোগিতায় মশা নিধনের ওষুধের কার্যকারিতা নিয়ে গবেষণা ও পর্যালোচনা চলছে বলে জানান তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞদেরও এ প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করা হয়েছে। ডেঙ্গু রোধে জনসচেতনতা ও কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে, সভাপতি স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, গত বছরের তুলনায় চলতি বছর ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। মশা নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন সিটি করপোরেশনে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান, স্প্রে ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে শনিবার পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রায় ৯০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে প্রায় ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ রোগী চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাড়ির ভেতর, ছাদ, বারান্দা ও আশপাশে পরিত্যক্ত টায়ার, প্লাস্টিকের পাত্রসহ যেসব স্থানে পানি জমতে পারে, সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি জনগণের সচেতনতাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগ ও স্বাস্থ্য বিভাগের সচিব, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং ১৩টি সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। ঢাকার বাইরের ১১টি সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা ভার্চ্যুয়ালি সভায় যোগ দেন।