কুমিল্লা নগরীর টমছমব্রিজ এলাকার ইকরা ইসলামিক স্কুল অ্যান্ড মাদ্রাসার আবাসিক ভবন থেকে দুই শিশু শিক্ষার্থী নিখোঁজ হয়েছেন। শনিবার (২৯ আগস্ট) রাত ১২টায় মাদ্রাসা থেকে বের হওয়ার পর থেকে তাদের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না।

নিখোঁজ শিক্ষার্থীরা হলেন—দেবীদ্বার উপজেলার বড় আলমপুর এলাকার বাসিন্দা ওমর ফারুকের ছেলে চতুর্থ শ্রেণির সাফওয়ান সাবিদ (১২) এবং লালমাই উপজেলার শিকারপুর এলাকার আবুল কালামের ছেলে তৃতীয় শ্রেণির ইব্রাহিম ফারহান (১১)। উভয়েই মাদ্রাসার আবাসিক ছাত্র।

এ ঘটনায় রোববার (৩০ আগস্ট) কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেন মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষক মো. আলী আজগর জুয়েল। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাত ১০টার দিকে পড়াশোনা ও রাতের খাবার শেষে অন্যান্য ছাত্রদের সঙ্গে ঘুমিয়ে পড়েন সাফওয়ান ও ইব্রাহিম। পরে শিক্ষক ও কর্মচারীরা ছাত্রীদের ঘুমিয়ে পড়া নিশ্চিত করে প্রধান ফটকে তালা দিয়ে নিজ নিজ ঘরে যান। রোববার ভোর সাড়ে চারটায় ফজরের নামাজে উঠাতে গিয়ে শিক্ষকরা দেখেন, সাফওয়ান ও ইব্রাহিম তাদের বিছানায় নেই। মাদ্রাসার বিভিন্ন কক্ষ ও আশপাশের এলাকা খুঁজেও তাদের পাওয়া যায়নি। এ সময় প্রধান ফটকটি খোলা অবস্থায় পড়ে।

পরবর্তীতে মাদ্রাসার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়। ফুটেজে স্পষ্ট দেখা যায়, রাতে অন্যান্য শিক্ষার্থীরা ঘুমিয়ে থাকাকালীন সময়ে দুই শিশু একজন শিক্ষকের পকেট থেকে চাবি নিয়ে প্রধান ফটকের তালা খুলে বাইরে বের হয়ে যায়। খবর পেয়ে দুই শিশুর অভিভাবকরা মাদ্রাসায় আসেন। তারা জানান, শিশুরা বাড়িতেও যায়নি। এরপর মাদ্রাসার শিক্ষক, অভিভাবক ও স্বজনরা টমছমব্রিজসহ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় এবং সম্ভাব্য স্থানে খোঁজাখুঁজি চালিয়েছেন। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, দুই শিশু মাদ্রাসা ত্যাগ করার পর কোনো ব্যক্তি বা ব্যক্তিরা তাদের প্রলোভন দেখিয়ে কিংবা জোর করে অন্য কোথাও নিয়ে যেতে পারে বলে পরিবারের সদস্যদের আশঙ্কা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

ইকরা ইসলামিক স্কুল অ্যান্ড মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ফরিদ আহাম্মদ বলেন, "রাতে তারা একজন শিক্ষকের পকেট থেকে চাবি নিয়ে তালা খুলে বাইরে বের হয়ে যায়। এ ধরনের ঘটনা এর আগে কখনো ঘটেনি। হোস্টেলের দায়িত্বে জাকারিয়া ও খলিল নামে দুজন ছিলেন। তারা তখন ঘুমিয়ে ছিলেন। সিসিটিভির ফুটেজ দেখে আমরা বিষয়টি জানতে পারি। এরপর পুরো শহরে তাদের খোঁজ করা হয়েছে।"

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ওবায়েদ উল্লাহ নয়ন বলেন, "আমি ছুটিতে আছি। আমাকে কেন তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তা জানি না।"

কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, "বিষয়টি আমার জানা ছিল না। নিখোঁজ দুই শিশুর সন্ধানে পুলিশ কাজ করছে।"