সৌদি আরবের রিয়াদে সোফা তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত নাটোরের নলডাঙ্গার রেমিট্যান্স যোদ্ধা রবিউল ইসলামের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে মরদেহ বহনকারী ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্সে তার নিথর দেহ পৌঁছায় নাটোর জেলার নলডাঙ্গা উপজেলার খাজুরা ইউনিয়নের মহিষডাঙ্গায়।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ভোর থেকেই নিজ গ্রাম ও আশপাশের এলাকার শত শত নারী, পুরুষ ও শিশু-কিশোর শেষবারের মতো একনজর দেখতে রবিউলের বাড়িতে ভিড় জমান। স্বজন হারানোর বেদনায় পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। পরে সকাল ১০টায় মহিষডাঙ্গা প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে সমাধিস্থ করা হয়।
গত ৯ আগস্ট সৌদি আরবের রিয়াদের মুসা সানাইয়া শিল্প এলাকায় ওই কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এতে ১৬ জন বাংলাদেশি কর্মী প্রাণ হারান। পরিচয় শনাক্ত হওয়া ৯ জনের মরদেহ দেশে ফেরে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ‘বিজি-৩৪০’ ফ্লাইটে রবিউলের মরদেহ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। সেখান থেকে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের অ্যাম্বুলেন্সে করে তা তার গ্রামের বাড়িতে পাঠানো হয়।
নিহত রবিউল ইসলামের বাবা আসলাম আলী ও মা তাদের একমাত্র উপার্জনক্ষম সন্তানের অভাবে দিশেহারা। বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন তারা। স্বজন হারানোর বেদনায় বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন স্বজনরা। পরিবারের স্বচ্ছলতা ফেরাতে কয়েক বছর আগে ধারদেনা ও ঋণ করে সৌদি আরবে পাড়ি জমান রবিউল। সেখানে সোফা তৈরির কারখানায় কাজ শুরু করলে আর্থিক অবস্থা উন্নতি হতে থাকে এবং প্রায় সব ঋণ শোধ হয়ে যায়। এরপর ছোট ভাইয়ের স্বপ্ন পূরণে আবারও ঋণ নিয়ে তাকে সৌদিতে নিয়ে যান রবিউল। কিন্তু গত ৯ আগস্টের অগ্নিকাণ্ডে সব স্বপ্ন পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
এ অবস্থায় সরকারের কাছে আর্থিক সহায়তার দাবি জানিয়েছেন রবিউলের পরিবার ও স্থানীয়রা। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন বলেন, কৃষক পরিবারের এই সন্তান ধারদেনা করেই বিদেশে গিয়েছিলেন। এখনও তাদের ব্যাংক ও এনজিওর সব ঋণ শোধ হয়নি। তিনি সরকারের কাছে পরিবারের ঋণ মওকুফ এবং সাবলীলভাবে জীবনধারণের জন্য সহায়তার আহ্বান জানান। পাশাপাসী খাজুরা ইউনিয়নের নিহত অন্য প্রবাসীদের মরদেহ দ্রুত দেশে আনার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।