প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের সরকারি সফরে আমন্ত্রণ না জানানোকে কেন্দ্র করে চাঁপাইনবাবগঞ্জে জেলা বিএনপির সিনিয়র নেতাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও বাগ্বিতণ্ডার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে জেলা সার্কিট হাউসে প্রটোকল লঙ্ঘন ও রাজনৈতিক উপেক্ষার অভিযোগ তুলে স্থানীয় বিএনপির একাংশ এই প্রতিবাদ জানান। তবে প্রতিমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বিএনপির শীর্ষ দুই নেতার এই সংঘাত ও প্রশাসনিক প্রটোকল বিতর্ক নিয়ে মুখ খুলতে রাজি হননি জেলা পরিষদের প্রশাসক হারুনুর রশীদ এবং জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গি।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সকালে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ সার্কিট হাউসে পৌঁছালে সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল, জেলা পরিষদের প্রশাসক হারুনুর রশীদ, জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী এবং পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস তসকে ফুল দিয়ে অভ্যর্থনা জানান। এরপর প্রতিমন্ত্রী প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং শিক্ষকদের একটি সভায় অংশ নেন।
শিক্ষাসংক্রান্ত ওই মতবিনিময় সভায় জেলা বিএনপির দায়িত্বশীল কোনো নেতাকে আমন্ত্রণ না জানানোয় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। প্রটোকল অনুযায়ী কেন অবহিত করা হয়নি, তা জানতে সার্কিট হাউসে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে যান জেলা বিএনপির সদস্যসচিব রফিকুল ইসলাম। এসময় হারুনুর রশীদ বাধা দিয়ে বলেন, এটি কোনো রাজনৈতিক অনুষ্ঠান নয়। সরকারি অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির সদস্যসচিবের এভাবে কথা বলা ঠিক হচ্ছে না।
এই বক্তব্যের পর দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং একে অপরের প্রতি ‘বেয়াদবি’র অভিযোগ তুলে বাগ্যুদ্ধে লিপ্ত হন তারা। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ নিজে হস্তক্ষেপ করে পরিবেশ শান্ত করেন। পরবর্তীতে প্রতিমন্ত্রী শহীদ সাটু হল অডিটোরিয়ামে ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচি’ ও প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন বিষয়ক সভায় যোগ দেন।
ঘটনার বিষয়ে জেলা বিএনপির সদস্যসচিব রফিকুল ইসলাম বলেন, “আমরা ঝগড়া করতে যাইনি। জেলায় মন্ত্রী এসেছেন অথচ প্রটোকল অনুযায়ী আমাদের কেন জানানো হলো না, তা ডিসি সাহেবের কাছে ও মন্ত্রীর কাছে জানতে চেয়েছিলাম। কথা বলার সময় হারুন সাহেব মন্ত্রীকে টেনে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। প্রতিমন্ত্রী আমাদের খাবারের আমন্ত্রণ জানালে আমি জানাই— আমরা খেতে আসিনি, কারণ জানতে এসেছি। এরপর হারুন সাহেব আমাদের বিরুদ্ধে বেয়াদবির অভিযোগ তুললে আমি পাল্টা প্রশ্ন তুলি— আমরা বেয়াদবি করেছি, নাকি তিনি নিজে করছেন?”
অন্যদিকে, এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে সাবেক সংসদ সদস্য ও বর্তমান জেলা পরিষদের প্রশাসক হারুনুর রশীদ কোনো প্রত্যক্ষ মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি কেবল বলেন, “যারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন, তাদের কাছে জিজ্ঞাসা করলেই প্রকৃত বিষয় স্পষ্ট হবে।”
সরকারি প্রটোকল না মানা ও ঘটনার দায় নিয়ে প্রশ্ন করা হলে জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, “এ ঘটনা কেন ঘটেছে, তা তাদেরকেই (বিএনপি) জিজ্ঞেস করেন। এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারব না।”