ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় কাস্টমস কর্মী আবু রায়হান তালুকদার (৪০) হত্যায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার এক মাসের বেশি সময় পর আজ বুধবার ভোরে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজের সূত্র ধরে ওই দুজনকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের সঙ্গে নিয়ে অভিযান চালিয়ে হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি, চাপাতি, লোহার রড, কাঠের গুঁড়ি ও রক্তমাখা বালিশের কাভার উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার দুজন হলেন নিহত রায়হানের বাড়ির কেয়ারটেকার রাজু মির্জা (১৯) ও তাঁর বন্ধু সোহেল মির্জা ওরফে জিতুল (২০)। তাঁদের বাড়ি ফুলবাড়িয়া উপজেলার অনন্তপুর গ্রামে।

নিহত রায়হান তালুকদার ঢাকার কমলাপুরে কাস্টমসের নিরাপত্তা শাখায় সিপাহি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি ফুলবাড়িয়া উপজেলার এনায়েতপুর ইউনিয়নের সোয়াইতপুর গ্রামের মৃত ছিদ্দিক তালুকদারের ছেলে। গত ২ আগস্ট বিকেলে নিখোঁজ হওয়ার ৯ দিন পর রায়হান তালুকদারের বাড়ির পেছনের একটি পরিত্যক্ত পুকুর থেকে তিনটি ট্রাভেল ব্যাগ ও চাদরে প্যাঁচানো অবস্থায় তাঁর ১৫ টুকরা মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

হত্যার ঘটনায় ৪ আগস্ট নিহত ব্যক্তির বড় ভাই নুরুল ইসলাম বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। এজাহারে অভিযোগ করা হয়, টাকা ও সম্পত্তি ভোগদখলের লোভে কেয়ারটেকার রাজু মির্জা, তাঁর বন্ধু সোহেল মির্জা ওরফে জিতুল ও অজ্ঞাতনামা আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে ডোবায় ফেলে রেখে যান।

আজ দুপুরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ফুলবাড়িয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শুভ্র সাহা মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “ঘটনার পর অভিযুক্ত দুই তরুণ এলাকা ছেড়ে পালান। তাঁরা নিজেদের মুঠোফোন ভেঙে আগুনে পুড়িয়ে দেন এবং কারও সঙ্গে যোগাযোগও করছিলেন না। ওই অবস্থায় তাঁদের শনাক্ত করা কঠিন হচ্ছিল। ৩ আগস্ট সিলেটের একটি হোটেলে দুজন এক রাত ছিলেন বলে সোর্সের মাধ্যমে খবর পাই। সেখানকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে দুই তরুণের গতিবিধি শনাক্ত করা হয়। পরে আমরা নিশ্চিত হই যে তাঁরা মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে স্টেশনের আশপাশে অবস্থান করছেন। আজ ভোরে দুজনকে শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।”

মামলার বাদী নুরুল ইসলাম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “ওরা (আসামিরা) আমার ভাইয়ের টাকা ও সম্পত্তির লোভে তাঁকে হত্যা করেছে। আমার ভাই মানুষকে অনেক টাকা দান করত। ভাই অনেক টাকা উপার্জন করায়, সেই টাকা নিজেরা ভোগ করার জন্যই হত্যা করা হয়েছে।”