রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়ায় এক শিক্ষক পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার ঘটনায় প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং দোষীদের গ্রেপ্তারের জন্য জুডিশিয়াল তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। আজ বুধবার বিকেলে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ সনাতন পার্টি (বিএসপি) আয়োজিত মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এই দাবি উত্থাপন করা হয়।
এই কর্মসূচিতে ভক্ত সংঘ সোসাইটি বাংলাদেশ, বিশ্ব হিন্দু ফেডারেশন, বাংলাদেশ দেশোয়ালি সমাজ, বাংলাদেশ সনাতন কল্যাণ জোট, বাংলাদেশ লোকনাথ ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন সংগঠন একাত্মতা প্রকাশ করে অংশ নেয়।
সমাবেশ থেকে বিএসপির সাধারণ সম্পাদক সুমন কুমার রায় ছয় দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, দেশের সব হত্যাকাণ্ডের দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত আসামিদের গ্রেপ্তার করে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে বিচার নিষ্পত্তি, রংপুরের হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন ও দোষীদের গ্রেপ্তারের জন্য জুডিশিয়াল তদন্ত, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কঠোরভাবে দমন, উগ্রবাদী ও মৌলবাদী তৎপরতা নিয়ন্ত্রণ এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়সহ দেশের সব নাগরিকের জানমাল ও ধর্মীয় স্বাধীনতার পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
উল্লেখ্য, গত ২২ আগস্ট রাতে রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়া এলাকার একটি বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী (২৫) ও ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তীর (১৩) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে সিদ্ধার্থ দাস (১৯) ও মুগ্ধ দাস (২৩) নামের দুই তরুণকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সমাবেশে দেশোয়ালি সমাজের সাধারণ সম্পাদক উজ্জ্বল প্রসাদ কানু বলেন, "দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণে সাধারণ মানুষ আজ নিজ ঘরেও নিরাপদ বোধ করছেন না। একদিকে লোডশেডিং, গ্যাস ও পানির সংকট এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি; অন্যদিকে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর সঙ্গে একের পর এক অস্বাভাবিক হত্যাকাণ্ড সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।"
এ সময় আরও বক্তব্য দেন ভক্ত সংঘ সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক অনিল পাল, বিএসপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রাণতোষ তালুকদার এবং সন্তোষ চন্দ্র দাস।