পাবনার ফরিদপুর উপজেলার একটি বেসরকারি হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের পর ১১ জন রোগীর ক্ষতস্থানে যক্ষ্মা শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে ১০ জন নারী গত তিন মাসের মধ্যে ওই হাসপাতালে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করিয়েছিলেন। অস্ত্রোপচারের পর ক্ষতস্থান না শুকানোয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করলে এই পরিস্থিতির কথা জানা যায়।

ফরিদপুর উপজেলা সদরের বনওয়ারী নগর মহল্লার আল-মদিনা ল্যাব অ্যান্ড হাসপাতালে এই অস্ত্রোপচারগুলো করা হয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে, হাসপাতালের অস্ত্রোপচার কক্ষে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতির মাধ্যমে এই সংক্রমণ ছড়িয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য বিভাগ হাসপাতালটির অস্ত্রোপচার কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে।

ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা আশিকুর রহমানকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. রাশেদুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, "তদন্ত কমিটিকে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। এরপর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

স্বাস্থ্য বিভাগ ও রোগীর স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, অস্ত্রোপচারের এক মাস পরও রোগীদের ক্ষতস্থান শুকাচ্ছিল না। পরবর্তীতে অন্য হাসপাতালে পরীক্ষা করালে যক্ষ্মা আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি সামনে আসে। বর্তমানে আক্রান্ত রোগীদের কয়েকজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

আক্রান্ত এক রোগীর স্বজন জানান, গত ১৮ মে ওই হাসপাতালে তাঁর স্ত্রীর সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার হয়। গত মাসে রাজশাহীতে নিয়ে পরীক্ষার পর ক্ষতস্থানে যক্ষ্মা ধরা পড়ে। এখন তাঁর চিকিৎসা চলছে।

চিকিৎসকদের মতে, রোগীদের বর্ণনা অনুযায়ী তাঁরা ফুসফুসবহির্ভূত যক্ষ্মায় আক্রান্ত হয়েছেন। পাবনা জেনারেল হাসপাতালের স্ত্রীরোগ–বিশেষজ্ঞ সাবেরা সুলতানা বিশ্বাস বলেন, "রোগীরা আশপাশের পরিবেশ থেকে যক্ষ্মায় আক্রান্ত হতে পারেন। অস্ত্রোপচারের পর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়লে সুপ্ত জীবাণু সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে কিংবা অস্ত্রোপচার কক্ষ থেকেও সংক্রমণ ছড়াতে পারে। এ বিষয়ে ভালোভাবে তদন্ত না করে সঠিক কারণ বলা কঠিন।"

অন্যদিকে, আল-মদিনা হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ রানা দাবি করেন, চার মাস আগে তাঁদের হাসপাতালে এক ব্যক্তির হার্নিয়ার অস্ত্রোপচার করা হয়। পরে ক্ষতস্থানে সংক্রমণ দেখা দিলে পরীক্ষা করে তাঁর যক্ষ্মা শনাক্ত হয়। এরপর আরও কয়েকজনের যক্ষ্মা শনাক্ত হয়েছে। বিষয়টি জানার পর হাসপাতালের অস্ত্রোপচার কক্ষ নতুন করে জীবাণুমুক্ত করা হয়েছে।

১১ জনের ক্ষতস্থানে যক্ষ্মা শনাক্তের বিষয়টি নিশ্চিত করে পাবনার সিভিল সার্জন মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, "ওই হাসপাতালের অস্ত্রোপচার কক্ষে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি থেকে সংক্রমণ ছড়াতে পারে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। হাসপাতালের দায়িত্বে অবহেলার বিষয়টি প্রমাণিত হলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"