পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের পানি আগ্রাসনের বিষয়ে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন পানি সম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে ফেনীর পরশুরামে 'মুহুরি কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্প (১ম পর্যায়)' এলাকা পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, "আমরা পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের পানি আগ্রাসনের শিকার। আমরা যাতে আর ভারতীয় পানি আগ্রাসনের শিকার না হই সে বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে।"
ফেনীর সীমান্তবর্তী এলাকায় মুহুরি কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মিত হলে স্থানীয় মানুষের মুখে হাসি ফুটবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। প্রকল্পের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, "আশা করছি, দুর্নীতিমুক্তভাবে এ প্রকল্পের কাজ শেষ হবে। কোনো প্রকার দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না, এটি আমাদের চ্যালেঞ্জ।"
২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যার কথা স্মরণ করে মন্ত্রী বলেন, "বিগত ২০২৪ এর বন্যায় এই অঞ্চলের মানুষ সর্বস্ব হারিয়েছেন, অনেকে মারা গেছেন। সেই সময়ের ভয়াবহ বন্যায় বাঁধ ভেঙে ব্যাপক ক্ষতির শিকার হয়েছেন এ জনপদের বাসিন্দা। সেই বন্যার ধকল এখনো এ অঞ্চলের মানুষ বয়ে বেড়াচ্ছেন।"
তিনি আরও জানান, এই জনপদের বাসিন্দাদের কথা বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একনেকে ১৫শ ৪৩ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছেন। এই এলাকাটি দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার নির্বাচনি এলাকা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, "তিনি এ অঞ্চলের মানুষের জন্য ব্যাপক উন্নয়ন করেছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় তার সুযোগ্য সন্তান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ অঞ্চলের বিষয়ে সুদৃষ্টি রাখছেন।"
আগামী মাসের কোনো এক সময়ে প্রধানমন্ত্রী এখানে এসে প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, "এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা আমাদের দীর্ঘদিনের চ্যালেঞ্জ ছিল। অবশেষে এ প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরু হবে।"
পরিদর্শনকালে আরও উপস্থিত ছিলেন ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য মুন্সি রফিকুল আলম মজনু, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য রাহেনা আক্তার রানু, ফেনী জেলা প্রশাসক মনিরা হক, পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির গ্রাম সরকার বিষয়ক সহ-সম্পাদক বেলাল আহমদ, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য জালাল উদ্দিন মজুমদার, মশিউর রহমান বিপ্লব, আবু তালেব, ফেনী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব শেখ ফরিদ বাহারসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতারা।