মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলায় বিএনপির দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। তবে জেলা বিএনপির আশ্বাসে উভয় পক্ষের নেতাকর্মীরা তাদের পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি স্থগিত করেছেন। একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকেও বিষয়টি দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। রোববার বিকেলে উপজেলা সদরে এই কর্মসূচিগুলো অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।
জানা গেছে, উপজেলা বিএনপির এক অংশ মাগুরা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সমর্থক এবং অপর অংশটি কেন্দ্রীয় যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সদস্যসচিব রবিউল ইসলাম নয়নের সমর্থক। কর্মসূচি ঘিরে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে সম্ভাব্য সংঘর্ষ এড়াতে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মহম্মদপুর থানায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ, বিজিবি ও র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) সদস্য মোতায়েন করা হয়।
রবিউল ইসলাম নয়নের পক্ষের মহম্মদপুর উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব মো. আক্তারুজ্জামান অভিযোগ করে জানান, “সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর অনুসারীদের বিরুদ্ধে পছন্দের লোকদের দিয়ে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া ইমাম-মুয়াজ্জিন বাছাইয়ে চরম অনিয়ম, কৃষকদের সার-বীজ আত্মসাৎ এবং খাদ্য গুদামে ধান প্রদানে অনিয়মসহ বিভিন্ন অভিযোগে তারা বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেন।” তবে তাদের সেই কর্মসূচি বানচাল করার উদ্দেশ্যে একই সময়ে পাল্টা কর্মসূচি দেওয়া হয়। তা সত্ত্বেও হাজার হাজার নেতাকর্মী সেখানে উপস্থিত হন বলে তিনি দাবি করেন।
অন্যদিকে, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর পক্ষের সাবেক উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও মাগুরা জেলা বিএনপির সদস্য অধ্যক্ষ মৈমুর আলী মৃধা জানান, বর্তমান সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হওয়ায় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড জনগণের সামনে তুলে ধরতে মহম্মদপুর বাজারের প্রেস ক্লাবের সামনে সমাবেশ কর্মসূচি আয়োজনের কথা ছিল। তবে জেলা বিএনপির নির্দেশনা মেনে রোববার রাত ৯টার দিকে সেই সমাবেশ স্থগিত ঘোষণা করা হয়।
মাগুরা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক আলী আহমেদ জানান, রোববার বিকেলে একই স্থানে দুপক্ষের সমাবেশ আয়োজনের কথা ছিল, যা নিয়ে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ধোয়াইল গ্রাম এলাকায় একপক্ষের বিপুল পরিমাণ নেতাকর্মী জড়ো হন। পরে তাঁদের সব দাবিদাওয়া মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলে তাঁরা সমাবেশ স্থগিত করতে সম্মত হন।