কিশোরগঞ্জের ভৈরবে আল আমিন (৪০) নামের কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের এক নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল রোববার দিবাগত রাত ১২টার দিকে পৌর শহরের টিনপট্টি এলাকায় এই নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে রাত তিনটার দিকে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত আল আমিন ভৈরব পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ছিলেন। এছাড়া তিনি ভৈরব চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সাবেক পরিচালক ছিলেন এবং সারের ব্যবসা করতেন। ভৈরব বাজারে তাঁর 'রিভারভিউ' নামে একটি আবাসিক হোটেল রয়েছে।

পরিবারের সদস্যদের সূত্রে জানা গেছে, আল আমিন পৌর শহরের আড়াইবেপারী এলাকার বাসিন্দা জসিম উদ্দিনের ছেলে। তিনি যুবলীগের সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। "২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়। তিনি দুবার পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে ছিলেন।"

বর্তমানে জামিনে থাকা আল আমিন রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অনেকটা আড়ালে জীবন যাপন করতেন। গত কয়েক বছর ধরে তিনি পৈতৃক বাড়িতে না থেকে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে শহরের রানীবাজার এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে জানা গেছে, গতকাল রাত সাড়ে ১১টার দিকে আল আমিন তাঁর রিভারভিউ হোটেলে ছিলেন। রাত ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে তিনি মোটরসাইকেল নিয়ে হোটেল থেকে বাসার উদ্দেশে রওনা হন। বাসার সড়কে ঢুকে কিছুদূর যাওয়ার পর দুর্বৃত্তরা তাঁকে ঘিরে ধরে এবং এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে।

আক্রান্ত ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বলা হয়েছে, "আল আমিনের মাথায় একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল। তাঁর একটি পায়ের রগ কেটে দেওয়া হয়। এতে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়।"

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আল আমিনের বাসার সড়কটি রাতে বেশ নির্জন থাকে। চিৎকার শুনে তাঁরা ছুটে এসে দেখেন কয়েকজন দ্রুত চলে যাচ্ছে এবং আল আমিন রক্তাক্ত অবস্থায় সড়কে পড়ে আছেন। মাথা ও মুখ রক্তে ভিজে যাওয়ায় প্রথমে তাঁকে চেনা সম্ভব হয়নি।

নিহতের স্ত্রী তানিয়া খানম জানান, রাত ১১টা ৪০ মিনিটে স্বামীর সঙ্গে তাঁর সর্বশেষ কথা হয়। তখন আল আমিন জানান যে তিনি হোটেলে আছেন এবং পাঁচ মিনিটের মধ্যে বাসায় ফিরবেন, তাই রাতের খাবার প্রস্তুত রাখতে বলেন। তবে কেন এবং কারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, সে বিষয়ে তিনি কোনো ধারণা করতে পারছেন না।

ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহাবুর রহমান এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।