রাজধানীর মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিলনায়তনে দিনব্যাপী আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘বাংলাদেশ বেসরকারি গ্রন্থাগার সংহতি’র প্রথম জাতীয় সম্মেলন। শনিবার সকাল ১০টায় দেশের শতাধিক বেসরকারি গ্রন্থাগারের প্রতিনিধিরা জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও পায়রা উড়িয়ে এই সম্মেলনের উদ্বোধন করেন। সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে ৩৩ সদস্যের একটি জাতীয় কমিটি গঠন করা হয়।
অনুষ্ঠানের প্রথম অধিবেশনে বাংলাদেশ বেসরকারি গ্রন্থাগার সংহতির আহ্বায়ক মোহাম্মদ শাহনেওয়াজের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক এবং জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক আফসানা বেগম। মফিদুল হক তাঁর বক্তব্যে পাঠাগার প্রতিনিধিদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, "পাঠাগারগুলো এখন ছোট ছোট সামাজিক শক্তির কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছে। মানুষের মধ্যে জ্ঞানচর্চা ও পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে এসব পাঠাগার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।"
অন্যদিকে আফসানা বেগম বলেন, "দেশের পাঠাগারগুলোকে শুধু বই পড়ার স্থান হিসেবে না দেখে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। পাঠাগারের মাধ্যমে পাঠাভ্যাস বাড়ানোর পাশাপাশি সমাজে জ্ঞানচর্চা ও সাংস্কৃতিক বিকাশের সুযোগ তৈরি করতে হবে।"
সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন শতবর্ষী যশোর ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক শেখ জুলফিকার আলী, গাইবান্ধা পাবলিক লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল হক, পুরান ঢাকার গ্রন্থবিতানের সাধারণ সম্পাদক মো. জহির উদ্দিন, লক্ষ্মীপুর পাবলিক লাইব্রেরি ও টাউন হলের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মাইন উদ্দিন পাঠান, সীমান্ত গ্রন্থাগারের সদস্যসচিব মানজার চৌধুরী এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের রানীহাটি সাধারণ পাঠাগারের সভাপতি মুজিবুর রহমানসহ বিভিন্ন পাঠাগারের প্রতিনিধিরা।
দ্বিতীয় অধিবেশনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা প্রতিনিধিরা তাঁদের বক্তব্যে জানান, দীর্ঘ সময় ধরে নানা সীমাবদ্ধতার মাঝেও বেসরকারি পাঠাগারগুলো পাঠাভ্যাস ও জ্ঞানচর্চার প্রসারে কাজ করছে। তবে সরকারি সহায়তার অভাব, অর্থসংকট, পর্যাপ্ত বই ও অবকাঠামোর ঘাটতির কারণে কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এই সমস্যা সমাধানে তাঁরা সরকারি স্বীকৃতি ও সহযোগিতা বাড়ানোর দাবি জানান। প্রতিনিধিরা মনে করেন, বেসরকারি পাঠাগারগুলোর সমস্যা ও সম্ভাবনা সামনে আনা এবং সমন্বয় গড়ে তুলতে ‘বাংলাদেশ বেসরকারি গ্রন্থাগার সংহতি’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সংগঠনের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা এবং সম্মিলিতভাবে স্বার্থ রক্ষায় কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তাঁরা।
দ্বিতীয় অধিবেশনে মোহাম্মদ শাহনেওয়াজকে সভাপতি এবং মো. জহির উদ্দিনকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। তাঁদের নেতৃত্বে তিন বছর মেয়াদি ৩৩ সদস্যের জাতীয় কমিটি গঠন ও সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুমোদন করা হয়। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন গেণ্ডারিয়া কিশলয় কচি-কাঁচার মেলার সাধারণ সম্পাদক নুসরাত ইয়াসমিন রুম্পা।