সিলেটের ওসমানীনগরে তেলবাহী ট্যাংকলরির চাপায় এক শিশুসহ একই পরিবারের তিন সদস্য ও এক অটোরিকশাচালকের মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনায় আহত দুই শিশু ও এক যুবক বর্তমানে এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আহত শিশুদের মধ্যে ছোট শিশুটি এখনো জানে না যে তার বাবা-মা ও বোন আর নেই।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, নিহতরা হলেন জগন্নাথপুর উপজেলার শ্রীরামশী গ্রামের গফুর মিয়ার ছেলে নিয়ামত আলী (৩৫), তার স্ত্রী অজুফা বেগম (৩০) ও মেয়ে আয়েশা আক্তার (৬)। এছাড়া নিহত হয়েছেন ওসমানীনগর উপজেলার শেরপুর মাঝেরবাড়ী গ্রামের মো. ফরিদ মিয়ার ছেলে লালন মিয়া (২৩), যিনি পেশায় সিএনজিচালিত অটো রিকশাচালক ছিলেন।
পুলিশ জানায়, শেরপুর থেকে সিলেটগামী একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা তেলবাহী ট্যাংকলরির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে যায়। স্থানীয়রা চালকসহ যাত্রীদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠালে কর্তব্যরত চিকিৎসক চারজনকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত নিয়ামত মিয়ার ভাই গাজীরুল মিয়া বলেন, "আমার বাবার ফোনে কেউ একজন টেলিফোন করে জানায় এই ফোন নম্বরটির মালিক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। আপনারা দ্রুত ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালে যান। হাসপাতালে গিয়ে জানতে পারি আমার ভাই, ভাইয়ের বউ এবং ছোট ভাতিজি মারা গেছে। ছোট্ট ভাতিজা ইয়াকুব (৪) এবং বড় ভাতিজি (১০) বেঁচে আছে। ভাতিজির অবস্থা গুরুতর, তাকে আইসিইউতে পাঠানো হয়েছে।"
গাজিরুল আলী আরও জানান, কিশোরগঞ্জ থেকে পাওনা ৭০ হাজার টাকাসহ স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে জগন্নাথপুরে ফিরছিলেন তার ভাই। পেশায় দিনমজুর নিয়ামত আলী ৩৫ বছর আগে কিশোরগঞ্জ থেকে জগন্নাথপুরে স্থানান্তরিত হয়েছিলেন।
হাসপাতালের ২৩ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন চার বছর বয়সী ইয়াকুবকে দেখাশোনা করছেন তার ছোট চাচা সামিরুল। চিকিৎসকদের মতে, ইয়াকুবের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল থাকলেও সে মানসিক আতঙ্কে রয়েছে। অন্যদিকে, আহত বড় বোন মারিয়া ও জায়াদ এহসান শুভ নামের এক যুবকের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়েছে।
ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোস্তফা মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "এখন পর্যন্ত চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তিনজনকে আহত অবস্থায় ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।"
সন্ধ্যায় হতাহতদের দেখতে হাসপাতালে যান সিলেট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খুশনূর রুবাইয়্যাৎ। তিনি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের দাফনের জন্য ২০ হাজার টাকা করে এবং আহতদের চিকিৎসার জন্য ১৫ হাজার টাকা করে প্রদান করেন।
উল্লেখ্য, সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে দুর্ঘটনার হার বাড়ছে। গত ৭ আগস্ট ওসমানীনগরে দুটি বাসের সংঘর্ষে নয়জন এবং ৩ মে দক্ষিণ সুরমার তেলিবাজারে ট্রাক-পিকআপ সংঘর্ষে ৯ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছিল।