রাজধানীর তেজগাঁও থানা আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। শনিবার বিকেলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) আওতাধীন এই থানায় গিয়ে তিনি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, পুলিশি সেবার মান, অবকাঠামোগত সুবিধা এবং সাধারণ জনগণের সেবা নিশ্চিত করার কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন।

পরিদর্শনকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রশাসনিক দপ্তর, ডিউটি অফিসারের কক্ষ, তদন্ত কর্মকর্তাদের অফিস, হাজতখানা, পুলিশ সদস্যদের আবাসিক ব্যারাক এবং ডাইনিং স্পেস (মেস) ঘুরে দেখেন। এসময় দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করে তাদের কর্মপরিবেশ, দায়িত্ব পালনের বিভিন্ন দিক এবং সেবার মান সম্পর্কে খোঁজখবর নেন তিনি।

পুলিশ সদস্যদের আবাসিক ব্যারাক পরিদর্শনের সময় আবাসন সুবিধা, পরিচ্ছন্নতা এবং মেসের খাবারের মান বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। পাশাপাশি নাইট ডিউটি ও শিফটিং ডিউটির সময়সূচি এবং কর্মপরিবেশ আরও উন্নত করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন তিনি।

থানায় সেবা নিতে আসা সাধারণ নাগরিকদের সঙ্গেও সরাসরি কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। জিডি (সাধারণ ডায়েরি) কিংবা অভিযোগ জানাতে আসা ভুক্তভোগীদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং তাদের অভিযোগ দ্রুত, স্বচ্ছ ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে নিষ্পত্তির জন্য থানার অফিসার ইনচার্জসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তাৎক্ষণিক নির্দেশ দেন।

এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "পুলিশের মূল দায়িত্ব জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সেবাদান। থানাকে এমন একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হবে, যেখানে সাধারণ মানুষ নির্ভয়ে, কোনো ধরনের তদবির বা মধ্যস্থতা ছাড়াই এসে নিজেদের সমস্যা তুলে ধরতে পারবেন। জনগণের আস্থা অর্জনই পুলিশের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।"

তিনি আরও বলেন, "সাধারণ মানুষের অভিযোগকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা দ্রুত গ্রহণ করতে হবে।" থানায় আগত কোনো ব্যক্তি যেন হয়রানি, অবহেলা বা অযাচিত বিলম্বের শিকার না হন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন তিনি।

পরিদর্শনকালে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ বিপিএম-সেবা এবং পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই আকস্মিক পরিদর্শন থানাভিত্তিক পুলিশি সেবার মানোন্নয়ন, জবাবদিহিতা বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের প্রতি আরও জনবান্ধব ও সেবামুখী পুলিশ ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।