রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান এবং শরণার্থীদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও সমন্বিত ও কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

শনিবার (২২ আগস্ট) রাজধানীর হোটেল শেরাটনে ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি (আইআরসি) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই আহ্বান জানানো হয়। মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের আগমনের নয় বছর পূর্তি এবং আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় করণীয় নিয়ে আলোচনার লক্ষ্যে এই আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, "রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে এবং মিয়ানমারের ওপর অর্থবহ চাপ সৃষ্টি করতে হবে।"

তিনি আরও বলেন, তৃতীয় দেশে পুনর্বাসনসহ দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের সুযোগ সম্প্রসারণের মাধ্যমে বাংলাদেশকে এই সংকটের বোঝা বহনে সহায়তা করার আহ্বান জানান। প্রতিমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, "রোহিঙ্গা সংকটকে কোনোভাবেই বিস্মৃত সংকটে পরিণত হতে দেওয়া যাবে না।"

তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকার এই সংকটের সমাধানকে বৈদেশিক নীতির সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে গ্রহণ করেছে এবং শুধু মানবিক সহায়তা নয়, বরং একটি স্থায়ী সমাধান অর্জনে বাংলাদেশ দৃঢ়প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

আইআরসির এশিয়া অঞ্চলের উপ-আঞ্চলিক পরিচালক হাসিনা রহমান বলেন, "মানবিক এই সংকটের নয় বছর পেরিয়ে গেছে। গতানুগতিক ধারায় আগামী বছরগুলোতে এ সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। মানবিক সহায়তার তহবিল কমে আসছে এবং বিশ্বের মনোযোগও ধীরে ধীরে অন্যদিকে সরে যাচ্ছে।"

তিনি সংকটের টেকসই সমাধান এবং ঝুঁকিতে থাকা মানুষের সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে সমন্বিত পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তার কথা জানান।

অন্যদিকে, রোহিঙ্গা মানবাধিকারকর্মী মিস লাকি করিম বলেন, "প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরুর আগে মিয়ানমারের রাখাইনে শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কাজ করতে হবে।"

তিনি আরও বলেন, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরি না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের মানসম্মত শিক্ষা ও টেকসই জীবিকার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে মানবিক সহায়তার ওপর তাদের নির্ভরশীলতা কমে।

অনুষ্ঠানে দুটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে সরকার, দাতা সংস্থা, মানবিক কার্যক্রমে যুক্ত প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাবিদদের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। আলোচনায় রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অধিকার ও আকাঙ্ক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয় এবং দাতা দেশ ও সংস্থাগুলোকে সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কূটনৈতিক মিশনের প্রতিনিধি, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, দেশি-বিদেশি এনজিও, শিক্ষাবিদ এবং রোহিঙ্গা সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।