পারিবারিক কলহের জের ধরে নরসিংদীতে চার বছর বয়সী ছেলেকে নিয়ে আন্তনগর উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়েছেন এক যুবক। এ সময় ট্রেনটির ধাক্কায় বাবা-ছেলে রেললাইনের মাঝে পড়ে যায় এবং ট্রেনটি তাঁদের ওপর দিয়ে চলে যায়। দুজনই প্রাণে বাঁচলেও গুরুতর আহত হয়েছেন।
গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নরসিংদী শহরের আরশীনগর রেলক্রসিংয়ের কাছেই বীরপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন স্থানে এ ঘটনা ঘটে। বাবা আল–আমিন (২৭) নরসিংদী সদর হাসপাতালে এবং তাঁর ছেলে আরিয়ান (৪) পাশের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। চলন্ত ট্রেনে ছেলেকে নিয়ে ঝাঁপ দিয়ে বেঁচে যাওয়া আল–আমিন নরসিংদী শহরের পূর্ব ব্রাহ্মন্দী এলাকার হাসেম মিয়ার ছেলে।
.এ ঘটনায় বাবা-ছেলে দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁদের চিকিৎসা চলছে। কপাল ভালো, ট্রেনটি তাঁদের ওপর দিয়ে গেলেও কেউ কাটা পড়েননি। পারিবারিক কলহের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে।দিলীপ চন্দ্র সরকার, উপপরিদর্শক, নরসিংদী রেলওয়ে ফাঁড়ি
ট্রেনটির ধাক্কায় দুজনই ছিটকে রেললাইনের মাঝে পড়ে। এ সময় ট্রেনটি তাঁদের ওপর দিয়ে চলে যায়। এতে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত পান বাবা-ছেলে।.
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে রেলওয়ে পুলিশ জানায়, গতকাল শুক্রবার বিকেলের দিকে আল–আমিন তাঁর চার বছরের ছেলে আরিয়ানকে নিয়ে বীরপুর মসজিদের সামনে অবস্থান নেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা নোয়াখালীগামী আন্তনগর উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেনটি নরসিংদী রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রাবিরতি দেয়। পুনরায় যাত্রা শুরু করে অল্পগতিতে ট্রেনটি বীরপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় অতিক্রমের সময় আরিয়ানকে নিয়ে রেললাইনে ঝাঁপ দেন আল–আমিন। ট্রেনটির ধাক্কায় দুজনই ছিটকে রেললাইনের মাঝে পড়ে। এ সময় ট্রেনটি তাঁদের ওপর দিয়ে চলে যায়। এতে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত পান বাবা-ছেলে।
স্থানীয় লোকজন বাবা–ছেলেকে দ্রুত উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেন। হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর দুজনের শারীরিক পরিস্থিতির অবনতি হয়। তাঁদের দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক।
.নরসিংদী সদর হাসপাতাল থেকে নিয়ে আরিয়ানকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার মাথায় ১৬টি সেলাই দেওয়া হয়েছে।.
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মনির হোসেন বলেন, বাবা-ছেলে দুজনই গুরুতর আহত হয়েছেন। দুজনই মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর আঘাত পেয়েছেন। প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আল–আমিনের বড় ভাই আবদুল কাদের জানান, নরসিংদী সদর হাসপাতাল থেকে নিয়ে আরিয়ানকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার মাথায় ১৬টি সেলাই দেওয়া হয়েছে। আল–আমিন এখনো সদর হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন আছেন।
নরসিংদী রেলওয়ে ফাঁড়ির উপপরিদর্শক দিলীপ চন্দ্র সরকার বলেন, এ ঘটনায় বাবা-ছেলে দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁদের চিকিৎসা চলছে। কপাল ভালো, ট্রেনটি তাঁদের ওপর দিয়ে গেলেও কেউ কাটা পড়েননি। পারিবারিক কলহের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে।