বাংলাদেশের কাছে ডারউইনে হারের পর সমালোচনায় সরব হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটাঙ্গন। গত ২৩ বছরে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে খেলতে নেমে নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখে বাংলাদেশ দেশি দলের জন্য হারিয়ে দিয়েছে নিজেদের শক্ত অবস্থান। হারের ধাক্কা তাই অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটে বেশ জোরালো প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দলের ভেতর পরিবর্তন আনার দাবি উঠছে সাবেকদের পক্ষ থেকেও। প্রথম টেস্টের দলে থাকা জ্যাক ওয়েদারাল্ডকে বাদ দিয়ে নেওয়া হয়েছে ম্যাট রেনশকে। দ্বিতীয় টেস্টের আগে সেই প্রসঙ্গ টেনে উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান অ্যালেক্স ক্যারি জানিয়েছেন, চ্যালেঞ্জের মুখে পড়লে দল কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায়—সে কথাটাই তাঁদের ভাবনায় আছে।
ম্যাকাইয়ে অনুশীলনের পর সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমি শুধু এটুকুই বলতে পারি, এই দলটা যখনই কোনো চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে, তখনই তারা দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। আমি আগামী শনিবারের ম্যাচের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।’
ডারউইনে দুই ইনিংস মিলিয়ে ৫০০ রান পর্যন্ত করতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। অন্যদিকে বাংলাদেশ জয় তুলে নিয়েছে ৯ উইকেটে। এই ধরনের ফলের পর যে কোনো দলই স্বাভাবিকভাবেই নিজেদের ভুলগুলো চিহ্নিত করে শোধরানোর চেষ্টা করে। ক্যারি জানিয়েছেন, ডারউইন টেস্টের সময়েই তারা বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করেছেন।
ক্যারি বলেন, ‘আমরা একদল গর্বিত ক্রিকেটার, গত সপ্তাহের ম্যাচটা আমাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী হয়নি। আমরা বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করেছি, নিজেদের মধ্যে কথা বলেছি—ম্যাচ শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা না করে খেলার মধ্যেই আমরা এসব আলোচনা করেছি।’
অস্ট্রেলিয়ার জন্য মূল উদ্বেগের জায়গা সম্ভবত ব্যাটিং। ডারউইনে প্রথম ইনিংসে ৪৩ বলে ১৯ এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ৭২ বলে ৩০ রান করেন ক্যারি। কমপক্ষে ৪০ বল খেলেছেন—এমন টেস্ট ইনিংসগুলোর মধ্যে এই দুইটি ছিল তাঁর অন্যতম মন্থরগতির। এ নিয়ে কী ধরনের কাজ হয়েছে, তা জানতে চাইলে ক্যারি বলেন, ‘প্রথম ও দ্বিতীয় ইনিংসে মাঠের পরিস্থিতি ছিল দুই রকম। মাঝে দুটো উইকেট পড়ে যাওয়ায় রান তোলার গতি কিছুটা কম ছিল। স্কয়ার অঞ্চলে ফিল্ডারদের পার করে শট খেলা বেশ কঠিন হয়ে পড়েছিল। তবে প্রতিপক্ষ খুব সুশৃঙ্খলভাবে খেলেছে, আর এটা থেকে আমরা অনেক কিছু শিখব।’