বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলা, ভারতে খেলার আগে বা পরে অনুশীলন করা এবং ভবিষ্যতে নিরপেক্ষ ভেন্যু হিসেবে বাংলাদেশকে ব্যবহার করার মতো বিভিন্ন সম্ভাবনা নিয়ে ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশনের (সিবিএফ) প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল।

দেশের ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তাবিথ আউয়াল বাংলাদেশ-ব্রাজিল প্রীতি ম্যাচ অথবা ঢাকায় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের অনুশীলনের সম্ভাবনা প্রসঙ্গে বলেন, “উত্তর হ্যাঁ। আমরা সব বিকল্প নিয়েই আলোচনা করেছি।”

আগামী ২৫ ও ২৯ সেপ্টেম্বর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে ব্রাজিল। ম্যাচ দুটি যথাক্রমে টাউনসভিল ও ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ৩ অক্টোবর কলকাতার সল্টলেক স্টেডিয়ামে ভারতের মুখোমুখি হবে তারা।

ভারত ম্যাচের পর ৫ অথবা ৬ অক্টোবর ঢাকায় বাংলাদেশের বিপক্ষে ব্রাজিলের খেলার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। এছাড়া, কলকাতা যাওয়ার আগে ঢাকায় এসে অনুশীলন করার বিকল্পটিও আলোচনায় এসেছে। তবে, এখনো কোনো পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়নি।

ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশনের পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দল গত রোববার ঢাকায় আসে। তারা জাতীয় স্টেডিয়াম, কয়েকটি হোটেল এবং বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনার সুযোগ-সুবিধা পরিদর্শন করে। তাবিথ আউয়াল জানান, সফরের বেশিরভাগ সময়ই তারা সম্ভাব্য ভেন্যু ও আবাসন ব্যবস্থা যাচাইয়ে ব্যয় করেছেন।

প্রতিনিধি দলের কাছে জাতীয় স্টেডিয়াম ও কিংস অ্যারেনার মাঠ এবং এর আশপাশের জায়গা ব্রাজিল জাতীয় দলের জন্য গ্রহণযোগ্য মনে হয়েছে। তবে, ড্রেসিংরুম, কারিগরি কর্মীদের স্থান এবং প্রবেশ ও বের হওয়ার পথের নিরাপত্তাব্যবস্থায় কিছু উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা দেখেছেন তারা। বাফুফে সভাপতির মতে, অল্প সময় ও সীমিত প্রচেষ্টাতেই এসব কাজ করা সম্ভব।

সোমবার রাত ১টা ৪০ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে ব্রাজিলের প্রতিনিধি দল। চলতি সপ্তাহেই তাদের পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশসংবলিত প্রতিবেদন ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশনের কাছে জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।

দুই ফেডারেশনের আলোচনায় শুধু প্রীতি ম্যাচই নয়, অবকাঠামো ও মাঠের উন্নয়ন, যৌথ কোচিং কর্মসূচি এবং ক্রীড়াবিজ্ঞান নিয়েও একসঙ্গে কাজ করার বিষয় উঠে এসেছে। বাংলাদেশের ব্রাজিল সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতাও জানিয়েছে প্রতিনিধিদল।

ব্রাজিলকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশে প্রীতি ম্যাচের আমন্ত্রণ জানানো এবং ভবিষ্যতে ঢাকাকে তাদের নিরপেক্ষ ভেন্যু হিসেবে ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে শিগগিরই সিবিএফের সঙ্গে আরেক দফা বৈঠক করবে বাফুফে।

তবে, একই সময়ে ইন্দোনেশিয়ায় ফিফা আসিয়ান কাপ খেলবে বাংলাদেশ। ২৪ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া এই প্রতিযোগিতার শেষ দিন ৪ অক্টোবর। বাংলাদেশকে অন্তত তিনটি গ্রুপ ম্যাচ এবং প্রয়োজনে আরও একটি স্থান নির্ধারণী ম্যাচ খেলতে হবে।

এ কারণে আলোচনা এগোলেও ঢাকা সফর কিংবা বাংলাদেশ-ব্রাজিল ম্যাচ এখনো নিশ্চিত নয়। আপাতত নিশ্চিত খবর একটিই, সম্ভাব্য সব পথ নিয়েই দুই ফেডারেশনের মধ্যে কথা হয়েছে।