একটি জয়েই যেন বদলে গেছে অনেক হিসাব। ডারউইন টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর পর বাংলাদেশের নাম ঘুরে বেড়াচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ক্রিকেটারদের আলোচনায়।
‘ফার্স্ট বোলিং কার্টেল’ শোতেও উঠে এসেছে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়। সেখানে ডারউইনে ম্যাচ-পরিস্থিতি বদলে দেওয়া বাংলাদেশিদের ভূয়সী প্রশংসা করেন ডেমিয়েন ফ্লেমিং, জেসন গিলেস্পি ও গ্লেন ম্যাকগ্রার পাশে থাকা অন্যান্য বিশ্লেষকরা—বিশেষ করে বাংলাদেশের ওপেনার তানজিদ ও পেসার হাসান মাহমুদকে সামনে রেখে।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ডারউইন টেস্টের প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরির পথে থাকা তানজিদের ব্যাটিংয়ে মুগ্ধ গিলেস্পি। বাংলাদেশের এই ওপেনারের টেকনিক, শট নির্বাচন এবং স্ট্রাইক রোটেশন নিয়ে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘তানজিদের টেকনিক দারুণ। ফুল লেংথের বলে ও সামনের পায়ে খেলেছে, শর্ট বল ব্যাকফুটে—বেসিক টেকনিকে ব্যাটিংটা করেছে। যখনই অস্ট্রেলিয়ার বোলাররা স্টাম্প থেকে অনেক বাইরে বোলিং করেছে, সে ব্যাট চালিয়েছে। তানজিদ দারুণ ব্যাটিং করেছে, ভালোভাবে স্ট্রাইক রোটেট করেছে। সেঞ্চুরিটা প্রাপ্য ছিল।’
তানজিদ সেঞ্চুরি করলেও ম্যাচের বড় অংশজুড়ে ছিলেন পেসার হাসান মাহমুদ। ৯ উইকেট নিয়ে তিনি ম্যাচসেরা হন। প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে মাত্র ১৯৮ রানে গুটিয়ে দিতে বড় ভূমিকা রাখেন হাসান; তিনি একাই নেন ৬ উইকেট। তাঁর বোলিং দেখে প্রশংসা করেছেন সাবেক অস্ট্রেলিয়ান পেসার ডেমিয়েন ফ্লেমিং—হাসানের বোলিংয়ে তিনি খুঁজে পেয়েছেন কিংবদন্তি গ্লেন ম্যাকগ্রার ছায়া!
ম্যাকগ্রাকে সামনে রেখে ফ্লেমিং বলেছেন, ‘হাসান মাহমুদ পারফেক্ট লেংথে বোলিং করেছে। আমি জানি না তুমি (ম্যাকগ্রা) কোনো হাইলাইট দেখেছ কি না, সে ম্যাকগ্রার মতো বোলিং করেছে। একটানা দারুণ বোলিং করেছে। ব্যাটসম্যানকে সামনে এসে খেলতে বাধ্য করেছে, আর বল ঠিক জায়গায় ফেলে সমস্যায় ফেলেছে।’
তবে গ্লেন ম্যাকগ্রার কথায় উঠে এসেছে আরও বড় একটি প্রেক্ষাপট। এই সিরিজের আগে সর্বশেষ ২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলেছিল বাংলাদেশ। এরপর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দীর্ঘ ২৩ বছর দুই দল আর টেস্টে মুখোমুখি হয়নি। ম্যাকগ্রার ধারণা, অস্ট্রেলিয়া হয়তো বাংলাদেশকে তাদের মাটিতে ভালো করতে দেবে না—এমন প্রত্যাশা থেকেই থাকতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশের এমন জয়ের ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, এটি শুধু দুই দলের সিরিজের ফল নয়; বিশ্ব ক্রিকেটের জন্যও ইতিবাচক একটি বার্তা।
ম্যাকগ্রার ভাষায়, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেটকে ভালোবাসে। দলটি সর্বশেষ অস্ট্রেলিয়াতে এসেছে ২৩ বছর আগে। অস্ট্রেলিয়া ২৩ বছর বাংলাদেশের সঙ্গে খেলেনি; কারণ, তারা ভেবেছে বাংলাদেশ ভালো করতে পারবে না। এরপর তারা অস্ট্রেলিয়ায় এসে এভাবে পারফর্ম করল! বিশ্ব ক্রিকেটের জন্যই এটা ইতিবাচক দিক। বাংলাদেশ ম্যাকাইয়েও যদি এমন পারফরম্যান্স ধরে রাখতে পারে, তাদের জন্য দারুণ কিছু হবে।’
ডারউইনে বাংলাদেশের জয় তাই কেবল একটি টেস্ট জয়ের গল্প নয়। তানজিদের ব্যাটে সেঞ্চুরি, হাসান মাহমুদের দুর্দান্ত বোলিং এবং অস্ট্রেলিয়ার সাবেক তারকাদের প্রশংসা মিলিয়ে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের ক্রিকেট নিয়ে নতুন করে আলোচনার দরজা খুলে দিয়েছে এই জয়। আগামী শনিবার ম্যাকাইয়ে শুরু হবে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট।