ফেনীর সোনাগাজী উপজেলায় 'ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬' কার্যক্রমে তথ্য সংগ্রহকারী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের এক নেতা। চরমজলিশপুর ইউনিয়নে নিযুক্ত ওই নেতার নাম আব্দুল্লাহ আল জাবের, যিনি ওই ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

গত রোববার (১৬ আগস্ট) রাতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্বাচিতদের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হলে এই বিষয়টি সামনে আসে। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬ কার্যক্রমের জন্য গত ২ আগস্ট সুপারভাইজার এবং ৪ আগস্ট তথ্য সংগ্রহকারী পদে পরীক্ষা নেওয়া হয়। মোট ছয় শতাধিক আবেদনের বিপরীতে সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারী মিলিয়ে ১৭৫ জনের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রকাশিত তালিকায় ছাত্রলীগের ওই নেতার নাম থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, সরকারি এই গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে দায়িত্ব দেওয়ার আগে প্রার্থীদের রাজনৈতিক পরিচয়সহ প্রয়োজনীয় যোগ্যতা যথাযথভাবে যাচাই করা হয়নি।

এই নিয়োগের বিষয়ে চরমজলিশপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আরিফ মিয়াজী মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "শুনেছি, তার এক আত্মীয় সরকারি চাকরি করেন এবং তার সুপারিশেই আব্দুল্লাহ আল জাবের এই দায়িত্ব পেয়েছেন। যাচাই-বাছাই না করে যাদের ফ্যামিলি কার্ডের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তাদের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের এজেন্ডা বাস্তবায়নের আশঙ্কা রয়েছে। নতুন বাংলাদেশে এটি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। অবিলম্বে তার নিয়োগ বাতিল করতে হবে।"

অন্যদিকে, সোনাগাজী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জয়নাল আবেদীন বাবলু মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "ফ্যামিলি কার্ড প্রধানমন্ত্রীর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। এ ধরনের সরকারি কর্মসূচির দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রার্থীর যোগ্যতা, দক্ষতা ও রাজনৈতিক পরিচয় যথাযথভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তি কীভাবে এমন দায়িত্ব পেলেন, তা খতিয়ে দেখা দরকার।"

বিষয়টি নিয়ে সোনাগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মারজান হোসাইন মুক্তকণ্ঠকে জানান, "ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগ নিয়ে বেশ কয়েকটি অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"