নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে এশিয়ান হাইওয়ে সড়কের কালাদী এলাকায় আন্ডারপাস নির্মাণের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সোমবার (১৭ আগস্ট) বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত চলা এই কর্মসূচির ফলে সড়কের উভয় পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়, যার ফলে দূরপাল্লার যাত্রী ও পরিবহনচালকরা চরম ভোগান্তির শিকার হন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্তমানে এশিয়ান হাইওয়ে সড়কটি ছয় লেনে উন্নীত করার কাজ চলছে। কালাদী এলাকার দুই পাশের কয়েকটি গ্রামে প্রায় ছয় হাজার মানুষের বসবাস। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী স্কুল-কলেজে যাতায়াত করেন এবং বিভিন্ন পেশার মানুষ জীবিকার প্রয়োজনে এই সড়কটি পার হন। ব্যস্ত ও দ্রুতগতির এই সড়ক পারাপারে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলে তারা দাবি করেন।

এলাকাবাসীর দাবি, গত সাত বছর ধরে তারা কালাদী এলাকায় একটি আন্ডারপাস নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন। এই লক্ষ্যে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরে আবেদন এবং একাধিকবার মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন সময়ে আশ্বাস দিলেও আন্ডারপাস নির্মাণ না করেই সড়কের উন্নয়নকাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে তাদের অভিযোগ।

এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার বেলা ১১টার দিকে কালাদীসহ আশপাশের গ্রামের কয়েকশ নারী-পুরুষ সড়কে অবস্থান নিয়ে মানববন্ধন শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা এশিয়ান হাইওয়ের উভয় পাশ অবরোধ করলে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় এবং দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

খবর পেয়ে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। দুপুর পৌনে ১টার দিকে স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনার পর আগামী বুধবার কালাদী এলাকায় আন্ডারপাস নির্মাণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানোর আশ্বাস দেওয়া হয়। এই আশ্বাসের পর দুপুর ১টার দিকে অবরোধ তুলে নেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে আগামী বুধবার পর্যন্ত ওই এলাকায় সড়ক সংস্কারের সব ধরনের কাজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা সতর্ক করে বলেছেন, আন্ডারপাস নির্মাণ না হলে ছয় লেনের ব্যস্ত সড়কটি চালু হওয়ার পর দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বাড়বে। তাই বুধবারের মধ্যে কার্যকর সিদ্ধান্ত না এলে তারা পুনরায় কর্মসূচিতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

এ বিষয়ে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ এইচ এম সালাউদ্দিন মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "স্থানীয়রা সড়কে আন্ডারপাসের দাবিতে মানববন্ধন করেন। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রকৌশলীরা ঘটনাস্থলে এলে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরে পুলিশ তাদের সড়ক থেকে সরিয়ে পাশে নিয়ে আলোচনা করার ব্যবস্থা করে। এরপর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।"