সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সে মাত্র ৩৪ দিনে জমা হয়েছে ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা। নগদ অর্থের পাশাপাশি এতে ২ ভরি ১ আনা সোনা এবং ১ ভরি ২ আনা রুপা পাওয়া গেছে। পূর্ববর্তী দুই দফার তুলনায় এবার সর্বোচ্চ পরিমাণ অর্থ জমা পড়েছে বলে জানা গেছে।

শনিবার (১৫ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে গণনা কার্যক্রম শেষ করে সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

এদিন সকাল থেকে মাজার প্রাঙ্গণে আনুষ্ঠানিকভাবে এই গণনা প্রক্রিয়া শুরু হয়। মাজারের আয় ও ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গঠিত ১৩ সদস্যের বিশেষ কমিটির উপস্থিতিতে পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা হয়।

নতুন দানবাক্স স্থাপনের পর এটি ছিল তৃতীয়বারের মতো প্রকাশ্যে টাকা গণনার ঘটনা। এর আগে নতুন বাক্স স্থাপনের মাত্র চার দিন পর, ২২ জুন প্রথম দফায় ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা পাওয়া গিয়েছিল। পরবর্তীতে ১১ জুলাই দ্বিতীয় দফায় দানবাক্স খুলে নগদ ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা পাওয়া যায়, যার মধ্যে বাংলাদেশি মুদ্রার পাশাপাশি বিদেশি মুদ্রা এবং সোনা-রুপা অন্তর্ভুক্ত ছিল।

উল্লেখ্য, হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দান ও আয়-ব্যয়ের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে গত জুন মাসে স্থানীয় প্রশাসন ও মাজার কর্তৃপক্ষের মধ্যে টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়। ১২ জুন তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. সারোয়ার আলম আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে একটি বৈঠক করেন এবং ১৮ জুন তার নির্দেশে মাজারের ঐতিহ্যবাহী ডেগে তালা লাগিয়ে নতুন দানবাক্স বসানো হয়।

পরবর্তীতে ২৬ জুন বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের উদ্যোগে আয়োজিত এক জরুরি সভায় মাজার পরিচালনা ও আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিতে ১৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।