বিশ্ব রাজনীতির জটিল সমীকরণে বাংলাদেশের জন্য কোনো একটি নির্দিষ্ট দেশের দিকে এককভাবে ঝুঁকে পড়া সমীচীন হবে না বলে মত দিয়েছেন গবেষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক আসিফ বিন আলী। তিনি বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটিতে ডক্টরাল ফেলো হিসেবে কর্মরত।

সম্প্রতি মুক্তকণ্ঠের ‘আলাপন’ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে তিনি উল্লেখ করেন, বড় রাষ্ট্রগুলোর ওপর বাংলাদেশের যেমন নির্ভরশীলতা রয়েছে, তেমনি দেশের নিজস্ব শক্তি ও ভূ-কৌশলগত সক্ষমতাও বিদ্যমান।

আসিফ বিন আলী বলেন, "আমেরিকা, চীন, রাশিয়া ও ভারতের মতো প্রতিটি দেশের সঙ্গেই বাংলাদেশের স্বার্থ ও নির্ভরতা জড়িত। আমেরিকা থেকে বাংলাদেশ রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করে, চীন থেকে পণ্য আমদানি করে এবং পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য রাশিয়ার সহযোগিতা প্রয়োজন। আবার সীমান্ত শান্তি ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখা প্রয়োজন।"

তিনি আরও জানান, বৃহৎ শক্তিগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান একটি বড় সুবিধা। বঙ্গোপসাগরে প্রবেশাধিকারের ক্ষেত্রে মিয়ানমারের চলমান গৃহযুদ্ধের কারণে বাংলাদেশ আমেরিকার কাছে বেশি নির্ভরযোগ্য হয়ে উঠেছে। একইভাবে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সামগ্রিক নিরাপত্তা অনেকাংশেই বাংলাদেশের স্থিতিশীলতার ওপর নির্ভরশীল।

পররাষ্ট্রনীতির বিষয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষক আসিফ বিন আলী বলেন, "সম্পর্কের এই বহুমাত্রিকতায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি অস্পষ্ট না রেখে অত্যন্ত স্পষ্ট ও আন্দাজযোগ্য করতে হবে।"

বিশ্বব্যবস্থার বর্তমান অস্থিরতার সময়ে বড় শক্তিগুলো যেন বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে কোনো দ্বিধায় না থাকে, তা নিশ্চিত করা জরুরি বলে তিনি মনে করেন।