সিলেট নগরের রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকায় দম্পতি ও তাদের গৃহকর্মীকে গলাকেটে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত বাবুল মিয়াকে চার দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।
রোববার (১৬ আগস্ট) তাকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলে শুনানি শেষে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
গত বুধবার সকালে রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসার দোতলা থেকে আব্দুস সাত্তার, তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম ও তাদের গৃহকর্মী তাহমিনার গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত আব্দুস সাত্তার সিলেট চেম্বার অব কমার্সের সাবেক পরিচালক এবং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ছিলেন।
ঘটনার ৬১ ঘণ্টা পর গত শুক্রবার রাতে নিহত দম্পতির মেয়ে সেলিনা সুলতানা সিলেট কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফেরার কারণে অভিযোগ দিতে দেরি হয়েছে বলে জানান তিনি। তবে তার করা অভিযোগে গ্রেপ্তার বাবুল মিয়ার নাম উল্লেখ করা হয়নি। বরং অভিযোগে আইনজীবী ও ইম্পালস বিল্ডার্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলামের সম্পৃক্ততার সন্দেহের কথা উল্লেখ করেছেন সেলিনা।
হত্যার কারণ নিয়ে পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন নিহত দম্পতির মেয়ে। পুলিশের প্রাথমিক তথ্যে গৃহকর্মী তাহমিনার সঙ্গে বাবুল মিয়ার কথিত প্রেমের সম্পর্ককে হত্যার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হলেও সেলিনার দাবি ভিন্ন। তার দাবি, দীর্ঘদিনের জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ভাড়াটে খুনিদের দিয়ে তার বাবা, মা ও গৃহকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে।
ঘটনার দিন বিকেল ৩টার দিকে রায়নগর রাজবাড়ি এলাকার প্রয়াত নূর মিয়ার ছেলে বাবুল মিয়াকে আটক করে পুলিশ। পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেছেন এবং তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যায় ব্যবহৃত রক্তমাখা একটি ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, ঘটনার দিন গৃহকর্মী তাহমিনার কোনো আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে বাবুল প্রথমে তাকে ছুরিকাঘাত করেন। এরপর একে একে আরও দুজনকে হত্যা করে বারান্দা দিয়ে পালিয়ে যান।
চার দিনের রিমান্ডে বাবুল মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, ঘটনার পেছনে অন্য কারও সম্পৃক্ততা এবং নিহতদের সঙ্গে তার সম্পর্কসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, "বাবুল মিয়াকে সিলেটের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্তের স্বার্থে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছিল। শুনানি শেষে বিচারক ফারহানা সুলতানা চার দিনের রিমান্ড দিয়েছেন।"