গবেষণা বলছে, কিছু খাবার ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। কারসিনোজেন বৈশিষ্ট্য থাকা খাবার ও উপাদানগুলোই মূলত ক্যানসার সৃষ্টির জন্য দায়ী। কারসিনোজেন বলতে এমন উপাদানকে বোঝায়, যা তেজস্ক্রিয় বিকিরণ ও অণুজীবের প্রভাবে মানবদেহ বা কোষের ডিএনএর জিনগত পরিবর্তন ঘটাতে পারে।

১. প্রক্রিয়াজাত মাছ-মাংস
প্রক্রিয়াজাত মাছ-মাংসে ক্যানসার সৃষ্টির অন্যতম উপাদান থাকতে পারে। হেটেরোসাইক্লিক অ্যামাইনস ও পলিসাইক্লিক অ্যারোমেটিক হাইড্রোকার্বন হলো এমন সব রাসায়নিক যৌগ, যা মাছ–মাংস উচ্চ তাপমাত্রায় রান্নার সময় তৈরি হয়। বিশেষ করে মাংস গ্রিল করা, আগুনে ঝলসিয়ে কাবাব বানানো ও ভাজার সময় এগুলো বেশি তৈরি হয়। এই যৌগগুলো কারসিনোজেন হিসেবে বিবেচিত এবং কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়।

২. অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত শর্করা সমৃদ্ধ খাবার
কার্বোহাইড্রেট (শর্করা) সমৃদ্ধ অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত করা খাবারে তুলনামূলকভাবে বেশি কারসিনোজেন যৌগ থাকতে পারে। শর্করাকে উচ্চ তাপমাত্রায় ভাজা বা সেঁকা হলে অ্যাক্রিলামাইড নামক কারসিনোজেন যৌগ তৈরি হয়। ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, ক্র্যাকার, চিপস, তেলেভাজা বিস্কুট, চানাচুর—এসব খাবারের মধ্যে এগুলো পাওয়া যেতে পারে। নিয়মিত খেলে পরিপাকতন্ত্রের ক্যানসার ও কোলন ক্যানসারে ঝুঁকি বাড়তে পারে।

৩. ট্রান্সফ্যাট সমৃদ্ধ খাবার
ট্রান্সফ্যাট (ক্ষতিকর চর্বি) সমৃদ্ধ খাবার ক্যানসারের ঝুঁকি বৃদ্ধি করতে পারে। চিপস, চানাচুর, শিঙাড়া, পেঁয়াজু, পিৎজা, বার্গার ইত্যাদি ফাস্ট ফুড ট্রান্সফ্যাট সমৃদ্ধ। ট্রান্সফ্যাট শরীরে দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহ ও কোষের ক্ষতি করে, যা ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। গবেষণা অনুযায়ী, উচ্চমাত্রায় ট্রান্সফ্যাট গ্রহণ কলোরেক্টাল, ওভারিয়ান ও প্রোস্টেট ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

৪. প্রিজারভেটিভ সমৃদ্ধ খাবার
প্রিজারভেটিভ সমৃদ্ধ খাবার ক্যানসারের জন্য দায়ী—বিশেষ করে নাইট্রেট ও নাইট্রাইটস সমৃদ্ধ প্রিজারভেটিভ। এগুলো সসেজ, হ্যাম, বেকন, হটডগসহ বিভিন্ন ফাস্ট ফুড এবং প্রক্রিয়াজাত মাংসে ব্যবহার করা হয়। উচ্চ তাপের সংস্পর্শে কারসিনোজেন গঠন হতে পারে; ফলে পাকস্থলীর ক্যানসারে ভূমিকা রাখতে পারে।

৫. তামাক বা তামাক জাতীয় পণ্য
তামাক বা তামাক জাতীয় পণ্য থেকে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তামাকের ধোঁয়ায় নাইট্রোসামিন নামক কারসিনোজেন উৎপন্ন হয়। এটি মুখের ও ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকি কয়েক গুণ বৃদ্ধি করে।

৬. শাকসবজিতে কীটনাশকের ব্যবহার
ভেজাল খাবারের পাশাপাশি শাকসবজিতে কীটনাশকের ব্যবহার অনেক বেড়েছে—এমন পর্যবেক্ষণও রয়েছে। কীটনাশকে হেভি মেটাল (ভারী ধাতু) ও অর্গানোফসফেটসহ অন্যান্য উপাদান ব্যবহার করা হয়। অর্গানোফসফেট কীটনাশক হিসেবে ব্যবহার করলে তা শাকসবজি ও ফলমূলে কিছুটা অবশিষ্ট থাকতে পারে। এই শাকসবজি নিয়মিত খেলে পাকস্থলী ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

৭. অ্যালকোহল পানের প্রভাব
অ্যালকোহল পানের ফলে শরীরে অ্যাসিটালডিহাইড তৈরি হয়। এটি ক্যানসার সৃষ্টিকারী জিনকে সক্রিয় করে। তাই নিয়মিত অ্যালকোহল পান করলে পরিপাকতন্ত্রের ও লিভার ক্যানসারের ঝুঁকি থাকে।