বর্তমানে পড়াশোনার পাশাপাশি পেশাদার কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলছেন অনেক শিক্ষার্থী। কেউ এখান থেকে ভালো আয় করছেন, আবার কেউ ভবিষ্যতের অভিজ্ঞতার কথা ভেবেই ক্যাম্পাস জীবন থেকেই এই কাজে হাত পাকিয়েছেন। পড়াশোনার সাথে কনটেন্ট তৈরির এই অভিজ্ঞতা কেমন, তা জানতে চাওয়া হয়েছিল কয়েকজন ক্রিয়েটরের কাছে। এই সিরিজের দ্বিতীয় পর্বে ইউনিভার্সিটি অব স্কলার্সের শিক্ষার্থী জে কে বাশারের কথা উঠে এসেছে।

বিবিএতে অধ্যয়নরত জে কে বাশার জানান, তার কনটেন্ট তৈরির শুরুটা ছিল অত্যন্ত সাধারণ, যা এখন তার জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন ক্লাব কার্যক্রমের সাথে যুক্ত। অবসর সময়ে বই পড়া, তরুণদের জন্য শিক্ষামূলক ভিডিও তৈরি এবং নিজের দক্ষতা বৃদ্ধির কাজে তিনি সময় ব্যয় করেন।

তবে পড়াশোনা ও কনটেন্ট ক্রিয়েশনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা সহজ নয় বলে মনে করেন তিনি। সময় ব্যবস্থাপনা, মানসম্মত কনটেন্ট তৈরি এবং ক্লাসের অ্যাসাইনমেন্ট ও পরীক্ষার প্রস্তুতির মধ্যে সমন্বয় করাটা বেশ চ্যালেঞ্জিং। তার পেশাদার যাত্রার শুরু হয় একটি ইংরেজি কোচিং সেন্টারের অফারের মাধ্যমে। সেই সময়ে তিনি বলেন, "তাদের সঙ্গে এক হয়ে কাজ করে প্রথম যে সম্মানী পাই, টাকার অঙ্কটা ছিল ১৪-১৫ হাজার।"

নিজের সৃজনশীলতা ও যোগ্যতার মাধ্যমে প্রথম উপার্জনের সেই অনুভূতি তার আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছিল বলে জানান তিনি। এরপর তিনি পাবলিক স্পিকিং এবং তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নের কাজে যুক্ত হন। এরই ধারাবাহিকতায় দেশের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পাবলিক স্পিকার হিসেবে কথা বলার সুযোগ পেয়েছেন তিনি।

বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার ব্যাপক জনপ্রিয়তা তৈরি হয়েছে। তিনি জানান, "এখন শুধু ফেসবুকেই আমার পেজে প্রায় ৪ লাখ ফলোয়ার আছেন। সব প্ল্যাটফর্ম মিলিয়ে সংখ্যাটা ৫ লাখ ছাড়িয়েছে।"

তবে অনুসারীর সংখ্যার চেয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, তাদের যোগাযোগ দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আত্মবিশ্বাসী করে তোলাকেই তিনি জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন হিসেবে দেখেন। ভবিষ্যতে তরুণদের দক্ষতা বিকাশ ও শিক্ষার প্রসারে আরও বড় পরিসরে কাজ করার লক্ষ্য রয়েছে তার, যদিও তার চূড়ান্ত লক্ষ্য বিসিএস।