পড়াশোনা করতে করতেই অনেকে পেশাদার কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছেন। কারও কারও ভালো আয়ও হচ্ছে। কেউ আবার আয়ের দিকে না ঝুঁকলেও ক্যাম্পাস–জীবন থেকেই কনটেন্ট বানিয়ে হাত পাকাচ্ছেন, যেন পরে কাজে লাগে এই অভিজ্ঞতা। আদতে পড়ালেখার পাশাপাশি কনটেন্ট বানানোর অভিজ্ঞতা কেমন, আমরা জানতে চেয়েছিলাম কয়েকজন কনটেন্ট ক্রিয়েটরের কাছে। প্রথম পর্বে পড়ুন ব্র‍্যাক ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী রুশমিলা মুনজারিন প্রেরণার কথা।

.

আমি ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে কম্পিউটারবিজ্ঞান ও প্রকৌশলে পড়ছি। তৃতীয় বর্ষে।

গত কোরবানির ঈদে দারুণ একটা কনটেন্ট বানিয়েছিলাম। মা-বাবাকে সারপ্রাইজ দেওয়ার জন্য কোরবানির গরু আমিই কিনতে চেয়েছিলাম। ভাবলাম, একটু ভিন্ন পথে হাঁটলে কেমন হয়? তাই গরু কেনার কাজে চ্যাটজিপিটির সাহায্য নিই! চ্যাটজিপিটিও অভিজ্ঞ ক্রেতার মতোই আমাকে ধাপে ধাপে শিখিয়ে দিল—কীভাবে বুঝতে হবে গরুটা আসল দেশি কি না, গরুর আনুমানিক ওজন কত হতে পারে এবং হাটে গিয়ে ঠিক কী কী প্রশ্ন করতে হবে ইত্যাদি। প্রযুক্তির এই চমৎকার পরামর্শ অক্ষরে অক্ষরে মেনে শেষ পর্যন্ত ৯১ হাজার টাকা দিয়ে বেশ সুন্দর একটা গরু কিনে বাড়ি ফিরি।

বইয়ের পাতার চেয়ে ছোটবেলা থেকেই নানা প্রযুক্তি ও ভিডিও করার প্রতি আমার একধরনের দুর্নিবার আকর্ষণ ছিল। সত্যি বলতে, একটা সময় গৎবাঁধা পড়াশোনা মোটেও ভালো লাগত না। কিন্তু পড়াশোনা তো ছাড়ার উপায় নেই, তাই পড়ার আনন্দ বাড়াতে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার ঠিক দুই-তিন মাস আগে থেকে পড়ালেখা আর ভিডিও মেকিংকে একসঙ্গে মিলিয়ে ফেললাম। নিজের পড়ার বিষয়গুলোই ভিডিও আকারে ধারণ করতে শুরু করলাম। কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে আমার পথচলার সেটাই প্রথম ভিত্তিপ্রস্তর।

.‘কেন আমার সঙ্গেই এমন হয়’—সন্তানকে এই মানসিকতা থেকে বের করবেন যেভাবে.

আমার বানানো প্রথম ভিডিওটি ছিল একটা স্মার্টফোনের আনবক্সিং। ফোনটা বাবা আমাকে উপহার দিয়েছিলেন। বাবার সেই উপহারের ফোন দিয়ে শুরু হওয়া শখ যে এত দ্রুত পেশায় রূপ নেবে, তা কিন্তু ভাবিনি। ২০২২ সালে প্রথম দিককার সেই ভিডিওগুলো থেকেই যখন মোট আয় দাঁড়িয়ে গেল প্রায় দেড় হাজার ডলার (১ লাখ ৮০ হাজার টাকার বেশি), তখন এক লাফে অনেকখানি বেড়ে যায় আত্মবিশ্বাস। এরপর আর থামতে হয়নি; একে একে দেশের বিভিন্ন স্বনামধন্য করপোরেট ব্র্যান্ডের সঙ্গে কাজের সুযোগ হয়েছে।

.

শুধু নিজের জন্য কনটেন্ট বানিয়ে থেমে থাকতে চাই না। দেশে ইংরেজি ভার্সনের শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত পড়াশোনার কনটেন্ট খুব একটা পাওয়া যায় না। এই অভাবটা আমি বেশ কিছুদিন ধরেই খেয়াল করছিলাম। সেই ভাবনা থেকেই মাত্র দুই মাস হলো নতুন এডটেক প্ল্যাটফর্ম চালু করেছি, নাম স্টাডিজার্নাল। কাজিন ও বন্ধুরা এই প্ল্যাটফর্মে ইংরেজি ভার্সনের শিক্ষার্থীদের পড়াচ্ছে। ইংরেজি মাধ্যমের পড়াশোনা আরও সহজ, আকর্ষণীয় ও আনন্দদায়ক করার জন্য বিভিন্ন শিক্ষণীয় কনটেন্ট তৈরি করে যাচ্ছি।

অনেকেই আমাকে প্রশ্ন করেন, সিএসইতে পড়ে, সফল কনটেন্ট ক্রিয়েটর হয়ে কিংবা এডটেক ভেঞ্চার চালিয়ে আমার ভবিষ্যতের চূড়ান্ত লক্ষ্য কী? উত্তরটা শুনে হয়তো অনেকেই একটু থমকে যান। তবে সত্য এটাই—বর্তমানে কনটেন্ট মেকিং আর প্রযুক্তি নিয়ে এত ব্যস্ত থাকলেও আমার মূল লক্ষ্য ও স্বপ্নের জায়গা হলো বিসিএস পরীক্ষা দিয়ে সরকারি চাকরিতে ঢোকা। পাশাপাশি নিজের উদ্যোগগুলোকে আরও বড় পরিসরে এগিয়ে নিতে চাই।