কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক লীগের এক কেন্দ্রীয় নেতার নেতৃত্বে শরীয়তপুরের গঙ্গানগর বাজারে মিছিল ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আয়োজিত এই কর্মসূচিতে অন্তত ৫ শতাধিক স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী ও সমর্থক অংশ নেন। পরবর্তীতে পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে দুজনকে আটক করেছে।
জানা গেছে, ওই কর্মসূচিতে স্লোগান ও বক্তব্য প্রদান করেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ স্বেচ্ছাসেবক লীগের ঢাকা মহানগর উত্তর কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিথুন ঢালী, যিনি শরীয়তপুর সদর উপজেলার গঙ্গানগর এলাকার বাসিন্দা। মিছিল ও সমাবেশের বেশ কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে, যা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের আত্মগোপনে থাকা নেতারা তাঁদের প্রোফাইলে পোস্ট করেছেন।
মিছিলে অংশ নেওয়া নেতা-কর্মীরা জানান, ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস পালন উপলক্ষে গতকাল সন্ধ্যায় শরীয়তপুর সদর উপজেলার গঙ্গানগর বাজারে এই মিছিল ও সংক্ষিপ্ত পথসভার আয়োজন করা হয়। মিছিল চলাকালীন মিথুন ঢালী শেখ হাসিনা, শেখ মুজিবুর রহমান ও আওয়ামী লীগ সম্পর্কে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং তাঁর সাথে তাল মিলিয়ে অন্য অংশগ্রহণকারীরাও স্লোগান দেন। এসময় তাঁদের হাতে জাতীয় পতাকা ও নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের দলীয় পতাকা ছিল।
মিছিল শেষে গঙ্গানগর-কাজিরহাট সড়কের শেষ প্রান্তে একটি সংক্ষিপ্ত পথসভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে মিথুন ঢালী বক্তব্য রাখেন। ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ডোমসার-গঙ্গানগর-কাজিরহাট সড়কের দক্ষিণ প্রান্ত থেকে একটি মিছিল গঙ্গানগর বাজারে প্রবেশ করেছে। মিছিলের সামনে থাকা একটি ব্যানারে লেখা ছিল ‘১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস ২০২৬, শোক থেকে শক্তি, শোক থেকে জাগরণ’। ওই ব্যানারে শেখ মুজিবুর রহমান, শেখ হাসিনা এবং ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট নিহতদের পরিবারের সদস্যদের ছবির পাশাপাশি শরীয়তপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ইকবাল হোসেন, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাছিম ও জাজিরা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোবারক আলী শিকদারের ছবি ছিল।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর শরীয়তপুরের আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতারা আত্মগোপনে চলে যান এবং সরকার সংগঠনটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে। এরপর থেকে প্রকাশ্যে কোনো বড় কর্মসূচি দেখা না গেলেও বিভিন্ন সময়ে ঝটিকা মিছিল, স্বল্প সময়ের সড়ক অবরোধ এবং বিশেষ দিবসগুলোতে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ছোটখাটো কর্মকাণ্ড পালন করা হয়েছে। এসব কর্মসূচির প্রেক্ষিতে পুলিশ বিভিন্ন থানায় দলীয় নেতাদের নামে মামলা করেছে।
ঘটনা প্রসঙ্গে শরীয়তপুর সদরের পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতার নেতৃত্বে শরীয়তপুরে মিছিল করা হয়েছে—এমন তথ্য আমাদের কাছে আসার সঙ্গে সঙ্গে সেখানে পুলিশ পাঠাই। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তাঁরা পালিয়ে যান। সেখানে অভিযান চালিয়ে দুজনকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।’