বঙ্গোপসাগরে জেলেদের জালে ধরা পড়া সাড়ে ২২ কেজি ওজনের একটি বিরল ভোল মাছ ৩ লাখ ৫৫ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে বাগেরহাটের কেবি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের মিরাজ হাওলাদার আড়তে আয়োজিত এক উন্মুক্ত নিলামে মাছটি কিনে নেন স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ী হারুন মীর। স্থানীয়দের কাছে এই মাছটি ‘ধাতিনা ভোল’ বা ‘দাতিনা ভোল’ নামে পরিচিত।

জানা গেছে, বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার বগা গ্রামের জেলেদের জালে মাছটি ধরা পড়ে। মঙ্গলবার সাগরে ইলিশ ধরতে গিয়ে এফবি মায়ের দোয়া ট্রলারের জেলেদের জালে অন্যান্য মাছের সঙ্গে এই বিশাল ভোল মাছটি উঠে আসে। জেলে ও ট্রলার সংশ্লিষ্টদের সূত্রে জানা যায়, সাগরে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে এবার ইলিশের তেমন দেখা মিলছিল না। মঙ্গলবার রাতে বাড়ি ফেরার আগে শেষবারের মতো জাল ফেললে এই বড় আকৃতির মাছটি ধরা পড়ে। পরবর্তীতে আজ সকালে মাছটি কেবি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের আড়তে আনা হয়।

মাছটি বরফ দিয়ে সংরক্ষণ করে বড় মোকামে নেওয়ার পর সেখান থেকে বিক্রির জন্য চট্টগ্রামে পাঠানোর পরিকল্পনা জানিয়েছেন ব্যবসায়ী হারুন মীর। তিনি আশা করছেন, এই বিক্রয় প্রক্রিয়ায় তাঁর প্রায় ৫০ হাজার টাকা লাভ হতে পারে। তিনি জানান, প্রতি কেজি ১৫ হাজার ৭৭৮ টাকা হিসেবে মাছটির মোট দাম দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৫৫ হাজার পাঁচ টাকা।

বাগেরহাট উপকূলীয় মৎস্য সমবায় সমিতির সভাপতি ইদ্রিস আলী জানান, দীর্ঘদিন পর এত বড় একটি ভোল মাছ ধরা পড়ল। তবে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, বর্তমানে সাগরে ছোট ফাঁসের জাল ব্যবহারের কারণে অনেক মাছ পূর্ণাঙ্গ আকারে বড় হওয়ার আগেই ধরা পড়ে যাচ্ছে।

ভোল মাছের পিত্তথলির উচ্চমূল্যের কথা উল্লেখ করে বাগেরহাট জেলা মৎস্য কর্মকর্তা রাজ কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘ভোল মাছ ছাড়াও আমাদের দেশীয় প্রজাতির মাছের এয়ার ব্লাডারও (বায়ুথলি) বেশ দামি। দেশীয় মাছের বায়ুথলি প্রতি কেজি ৩৫ থেকে ৩৬ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। ভোল মাছের বিভিন্ন অঙ্গ চিকিৎসা সামগ্রী ও প্রসাধনী উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়। মাছের অঙ্গও আমাদের একটি রপ্তানি পণ্য।’