কক্সবাজারের চকরিয়ায় একটি যাত্রীবাহী লেগুনা ও এসি বাসের ভয়াবহ মুখোমুখি সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন। এই দুর্ঘটনায় আরও পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে উপজেলার খুটাখালী নয়াপাড়া বায়তুল মামুর জামে মসজিদের সামনে দুর্ঘটনাটি ঘটে।

নিহতরা হলেন— চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নের সেগুনবাগিচা এলাকার মৃত মতিউর রহমানের ছেলে জসিম উদ্দিন (২৫), ঈদগাঁও উপজেলার পশ্চিম গজারিয়া এলাকার মৃত আবুল কাশেমের ছেলে মো. রফিক (২৮), চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নের ফুলছড়ির শিয়াপাড়া এলাকার মৃত মঞ্জুর আলমের ছেলে মো. শাহেদ (২৭) এবং খুটাখালী ইউনিয়নের নতুন অফিস এলাকার আমিনুল হকের ছেলে মো. জিয়াবুল হক (২৫)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদগাঁও থেকে চকরিয়াগামী নম্বরবিহীন একটি যাত্রীবাহী লেগুনা যখন খুটাখালী নয়াপাড়া এলাকায় পৌঁছায়, তখন বিপরীত দিক থেকে আসা লাল-সবুজ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী এসি বাস সেটিকে সামনে থেকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে লেগুনার ছাদ আলাদা হয়ে যায় এবং পুরো গাড়িটি দুমড়েমুচড়ে যায়। দুর্ঘটনায় লেগুনায় থাকা ৯ জন যাত্রী আহত হন। স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতাল ও মালুমঘাটের খ্রিষ্টান মেমোরিয়াল হাসপাতালে পাঠান। সেখানে মালুমঘাট খ্রিষ্টান মেমোরিয়াল হাসপাতালে একজন এবং কক্সবাজার সদর হাসপাতালে আরও তিনজন মারা যান।

গুরুতর আহত হয়েছেন ঈদগাঁওয়ের নাপিতখালী এলাকার সরোয়ার (১৯) ও তাঁর বাবা সৈয়দ আলম (৫০), খুটাখালীর নতুন অফিস এলাকার জিয়াবুল হক (৪০), মেধাকচ্ছপিয়া এলাকার দেলোয়ার হোসেন (৩৫) এবং টেকনাফের কিরনতলী এলাকার সৈয়দ করিম (৩০)। আহতদের মধ্যে সরোয়ার, সৈয়দ আলম, জিয়াবুল হক ও দেলোয়ার মালুমঘাটের খ্রিষ্টান মেমোরিয়াল হাসপাতালে এবং সৈয়দ করিম কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

স্থানীয়দের মতে, দুর্ঘটনার পরপরই তাঁরা ঘটনাস্থলে ছুটে এসে আহতদের উদ্ধার করেন। দুমড়েমুচড়ে যাওয়া লেগুনাটি মহাসড়কের মাঝখানে পড়ে থাকায় অন্তত এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে।

মালুমঘাট হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শামসুজ্জামান মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি দুটি থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। নিহত ব্যক্তিদের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।"