বিশ্বজুড়ে বর্তমানে একটি বড় স্বাস্থ্য সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে অস্টিওআর্থ্রাইটিস। এটি মূলত একটি ডিজেনারেটিভ জয়েন্ট বা অস্থিসন্ধির ক্ষয়জনিত সমস্যা, যার ফলে জয়েন্টের তরুণাস্থি ধীরে ধীরে ক্ষয় হতে থাকে। এই রোগটি কেবল তরুণাস্থিতেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং লিগামেন্ট ও হাড়কেও আক্রান্ত করে। এর চূড়ান্ত পর্যায়ে হাঁটু, কোমর বা হাতের জয়েন্টে তীব্র ব্যথা এবং নড়াচড়ায় প্রচণ্ড কাঠিন্য দেখা দেয়।
সাধারণত ব্যথানাশক ওষুধ বা স্টেরয়েড ইনজেকশন সাময়িক স্বস্তি দিলেও তরুণাস্থিকে পুনরায় সুস্থ করতে তা কার্যকর হয় না। এই সীমাবদ্ধতার বিপরীতে প্লাটিলেট রিচ প্লাজমা বা পিআরপি (PRP) থেরাপি এখন নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে।
পিআরপি হলো রোগীর নিজস্ব রক্ত থেকে প্রক্রিয়াজাত করা প্লাজমা, যেখানে প্লাটিলেটের পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে ৩ থেকে ৬ গুণ বেশি থাকে। এই পদ্ধতিটি প্রস্তুত করতে প্রথমে রোগীর শিরা থেকে রক্ত নেওয়া হয় এবং একটি বিশেষ সেন্ট্রিফিউজ মেশিনে ঘোরানো হয়। এরপর এতে ক্যালসিয়াম ক্লোরাইড মিশিয়ে প্লাটিলেট অ্যাকটিভেট করা হয়, যার ফলে গ্রোথ ফ্যাক্টর বা বৃদ্ধির কারণগুলো মুক্ত হয়।
সম্পূর্ণ জৈবিক পদ্ধতিতে পিআরপি জয়েন্টে ইনজেকশনের মাধ্যমে প্রয়োগ করা হয়। এতে থাকা গ্রোথ ফ্যাক্টরগুলো তরুণাস্থি কোষের বিস্তার ঘটায় এবং ম্যাট্রিকস তৈরিতে সহায়তা করে। এটি জয়েন্টের প্রদাহ কমিয়ে ব্যথা নিরাময়ে কার্যকর ভূমিকা রাখে এবং ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যুগুলো ধীরে ধীরে মেরামত করে।
২০২৫ সালের এক মেটা-বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পিআরপি ইনজেকশনের পর ৬ থেকে ১২ মাস পর্যন্ত রোগীর ব্যথা কমে এবং চলাচলের ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। ইউরোপিয়ান সোসাইটি অব স্পোর্টস ট্রমাটোলজির মতে, হালকা থেকে মাঝারি ধাপের অস্টিওআর্থ্রাইটিসের ক্ষেত্রে পিআরপি অত্যন্ত কার্যকর। বিশেষ করে হাঁটুর অস্টিওআর্থ্রাইটিসে এটি হায়ালুরোনিক অ্যাসিডের চেয়ে বেশি কার্যকর এবং দীর্ঘমেয়াদি সুবিধা প্রদান করে।
তবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, পিআরপি একটি প্রতিশ্রুতিশীল পদ্ধতি হলেও এটি চূড়ান্ত চিকিৎসা নয়। রোগীর বয়স এবং অস্টিওআর্থ্রাইটিসের ধাপ বিবেচনা করে একজন চিকিৎসকই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন।
তথ্যসূত্র: ডা. এইচ এন মাসুক রহমান, সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন, বিআইএইচএস; চেম্বার: আলোক মাদার অ্যান্ড চাইল্ড কেয়ার, মিরপুর ৬, ঢাকা।