রাজশাহীর কাটাখালী পৌরসভার বিদ্যুতের পোর্টেবল (বহনযোগ্য) ট্রান্সফরমার চালু করার পরপরই মসজিদের সামনে ও আশপাশের কয়েকটি বাসাবাড়িতে বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম পুড়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই সময় নেসকোর কর্মীদের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে।

ঘটনাটি ঘটেছে গত সোমবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই রাতে বাখরাবাজ এলাকায় মসজিদের সামনে একটি ট্রান্সফরমার অকেজো হয়ে পড়ে। এতে বাখরাবাজ মোল্লাপাড়া, বাখরাবাজ মধ্যপাড়া ও বাখরাবাজ স্কুলপাড়া মহল্লার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না আসায় বাসিন্দারা নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) কাটাখালী কার্যালয়ে ফোন করেন। পরে নেসকোর কর্মীরা গিয়ে দেখেন, ট্রান্সফরমারটি অকেজো হয়ে গেছে।

রাত দুইটার দিকে নেসকোর কর্মীরা একটি পোর্টেবল ট্রান্সফরমার এনে লাইনে সংযোগ দেন। সংযোগ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মসজিদের সামনে থাকা একটি বৈদ্যুতিক বাল্ব পুড়ে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে নেসকোর কর্মীরা সংযোগ বন্ধ করে দেন। তবে সংযোগ বন্ধ করার আগেই তিনটি মহল্লার বিভিন্ন বাড়িতে ইলেকট্রনিকস পণ্য পুড়ে নষ্ট হওয়ার ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

এ ঘটনার পর ক্ষুব্ধ লোকজন বাড়ি থেকে বেরিয়ে নেসকোর কর্মীদের ওপর হামলা করেন এবং তাদের আটকে রাখেন। কেউ কেউ নেসকোর কর্মীদের মারধরও করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং নেসকোর কর্মীদের উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

ওই এলাকার বাসিন্দা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রাজশাহী জেলা কমিটির আহ্বায়ক নাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘তিনটি মহল্লার প্রায় সব বাড়ির ইলেকট্রনিক পণ্য পুড়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত লোকজন অভিযোগ জানাতে আমার বাড়িতেই আসছেন। ক্ষতিপূরণ দাবি করছেন।’

এ বিষয়ে নেসকোর রাজশাহীর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-৫–এর নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয় তিনটি লাইনের মাধ্যমে। কোনো কারণে দুটি লাইন এক হয়ে গেলে আনলিমিটেড বিদ্যুৎ যাবে। এটা অত্যন্ত বিপজ্জনক। এই ক্ষেত্রে এমনই হয়েছে। এটা কোনো গ্রাহকের বাড়িতেও হতে পারে, মূল লাইনেও হতে পারে। কোথায় হয়েছে, সেটা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।’

স্থানীয় বাসিন্দা মো. সানা জানান, তাঁর বাড়ির বৈদ্যুতিক বাতি ছাড়াও টেলিভিশন, ফ্রিজ ও এসি পুড়ে গেছে। তাঁর দাবি, নেসকোর কর্মীরা ওভার ভোল্টেজ চালু করেছিল এবং পোর্টেবল ট্রান্সফরমার চালু করার সঙ্গে সঙ্গেই ইলেকট্রনিকস পণ্য পুড়ে যায়। তিনি ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন।

কাটাখালী পৌর বিএনপির পক্ষ থেকে বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করা হচ্ছে। পৌর বিএনপির আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম বলেন, এই এলাকায় প্রায় ৩০০ বাড়ি আছে। কার কী ক্ষতি হয়েছে, তা তালিকা করা ছাড়া বলা যাচ্ছে না।

ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘বিদ্যুতের ভালো ও খারাপ দুটি দিকই আছে। আমরা সব সময় ভালো কাজের জন্য বিদ্যুৎ ব্যবহার করি। এখন দুর্ঘটনা ঘটে গেলে তো আর এতগুলো বাড়ির ক্ষতিপূরণ দেওয়া সম্ভব নয়। এটা কি দেওয়া সম্ভব?’

নেসকোর সার্কেল-১–এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মাহবুবুল আলম চৌধুরী ও প্রধান প্রকৌশলী (অপারেশন) জিয়াউল ইসলাম জানিয়েছেন, এ দুর্ঘটনার ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ থেকে তাঁদের কিছুই জানানো হয়নি। তাঁরা বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখবেন।