ফরিদপুরের নগরকান্দা পৌরসভায় ঘুষ দিতে অস্বীকার করায় এক ঠিকাদারকে বেধড়ক পিটিয়ে হাত ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির ও তার সহযোগী মোসলেম উদ্দিনের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী ঠিকাদার হাসিবুল হাসান আব্দুল্লাহর দাবি, বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে নগরকান্দা পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তার কক্ষেই এই ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে নগরকান্দা হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তবে মারধরের এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট পৌর কর্মকর্তা।
হাসিবুল হাসান আব্দুল্লাহ জানান, তার প্রতিষ্ঠান সৈয়দা জাহানারা এন্টারপ্রাইজের মাধ্যমে ২০২৩ সালে আইইউআইডিপি প্রকল্পের আওতায় তিনটি সড়কের আরসিসি ঢালাইয়ের কাজ সম্পন্ন করেছেন তিনি। ওই কাজের বিল আট মাস আগেই অনুমোদিত হলেও তা আটকে রাখা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
তার অভিযোগ, বিল ছাড় করার বিনিময়ে পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির ১৫ শতাংশ ঘুষ দাবি করেন। এর মধ্যে গত ১০ আগস্ট পাঁচ লাখ টাকা পরিশোধ করলেও আরও পাঁচ লাখ টাকা দাবি করে বিল আটকে রেখে তাকে হয়রানি করা হচ্ছিল। বুধবার আটকে থাকা বিলের বিষয়ে কথা বলতে প্রশাসনিক কর্মকর্তার কক্ষে গেলে হুমায়ুন কবির ও মোসলেম উদ্দিন তাকে পাইপ দিয়ে বেধড়ক পেটান বলে জানান হাসিবুল। এতে তার হাত ভেঙে যায় বলে তিনি দাবি করেন। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করার কথা জানিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে, ঘুষ দাবির অভিযোগ অস্বীকার করে প্রশাসনিক কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির জানান, ঠিকাদারের কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় বিল দেওয়া হচ্ছিল না। তার দাবি, কাজ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত বিল না দেওয়ার নির্দেশনা ছিল পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার।
এশিয়া পোস্টকে হুমায়ুন কবির বলেন, "এ কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে ঠিকাদার প্রথমে তাদের কক্ষে এসে হামলা করেন।" ঠিকাদারকে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি আরও দাবি করেন, পৌরসভা থেকে বের হওয়ার সময় ঠিকাদার স্বাভাবিকভাবেই হেঁটে গেছেন, যার প্রমাণ সিসি ক্যামেরার ফুটেজে রয়েছে। তিনি মন্তব্য করেন, ঠিকাদার পরে কোথাও দুর্ঘটনায় আহত হয়ে থাকতে পারেন।
এ বিষয়ে নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা আফরিন মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ঠিকাদারের বিলের বিষয়টি তিনি জানেন। কাজের অসংগতি পাওয়ায় কাজ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত বিল দিতে নিষেধ করা হয়েছে। তবে প্রশাসনিক কর্মকর্তার কক্ষে ঠিকাদার কী কারণে গিয়েছিলেন, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন বলে জানান।
সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভেতরে এ ধরনের মারধরের ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত উল্লেখ করে রেজওয়ানা আফরিন বলেন, "ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি তদন্ত করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"