দীর্ঘ ১০৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে পুনরায় মাছ আহরণ শুরু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) প্রথম দিনেই রেকর্ড পরিমাণ মাছ অবতরণ এবং বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আদায় করা হয়েছে, যা জেলে ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে নতুন কর্মচাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। তবে ঘাটে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সন্ধ্যা ৭টার পর মাছের ট্রলার বা বোট ভিড়ানোর ওপর কড়াকড়ি আরোপ করেছে বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি)।

বিএফডিসি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দিনেই রাঙামাটির চারটি ঘাটে মোট ১৯৩ টন মাছ অবতরণ হয়েছে, যা গত অর্থবছরের প্রথম দিনের তুলনায় প্রায় ৫৪ শতাংশ বেশি। এর ফলে প্রথম দিনেই সরকারি কোষাগারে ৪২ লাখ ৪০ হাজার টাকার বেশি রাজস্ব জমা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম দিনে চারটি ঘাটে ১২৫ মেট্রিক টন মাছ অবতরণ হয়েছিল এবং সেখান থেকে রাজস্ব আদায় হয়েছিল ২৭ লাখ ৫৭ হাজার ২৮৭ টাকা।

বর্তমানে কাপ্তাই হ্রদের বাঘাইছড়ি, লংগদু, বরকল, বিলাইছড়ি, মাইনী, শুভলং, গাছকাটাছড়া ও রাইংক্ষ্যং খালসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে মাছ ঘাটে আসছে। ব্যবসায়ীরা প্রয়োজনীয় শুল্ক পরিশোধের পর বরফ দিয়ে মাছ সংরক্ষণ করে চট্টগ্রাম, ঢাকা এবং উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন পাইকারি বাজারে পাঠাচ্ছেন।

কাপ্তাই মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি বেলাল হোসেন বলেন, "দীর্ঘ বিরতির পর হ্রদে মাছ আহরণ শুরু হওয়ায় জেলে ও ব্যবসায়ী পরিবারগুলোতে আনন্দের হাওয়া বইছে।"

রাঙামাটি বিএফডিসির উপ-ব্যবস্থাপক মো. মাসুদ আলম বলেন, "প্রথম দিনেই রেকর্ড পরিমাণ মাছ অবতরণ হয়েছে। তবে কিছু ক্ষেত্রে দেখা গেছে, প্রথম দিন অনেক ব্যবসায়ী নিয়ম মানেননি। আজ বুধবার থেকে সন্ধ্যা ৭টার পর কোনো মাছের বোট ঘাটে ভিড়তে দেওয়া হবে না। নিয়ম শৃঙ্খলা বজায় রাখলে সারা বছরই কাঙ্ক্ষিত মাছ পাওয়া সম্ভব হবে। তাই এ বিষয়ে সকল ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা প্রয়োজন।"

কার্প জাতীয় মাছের বংশবৃদ্ধি ও প্রাকৃতিক প্রজনন নিশ্চিত করতে গত ২৫ এপ্রিল থেকে কাপ্তাই হ্রদে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে পানির স্তর স্বাভাবিক না হওয়ায় এই নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়িয়ে ১০ আগস্ট মধ্যরাত পর্যন্ত করা হয়। নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর ১১ আগস্ট (মঙ্গলবার) ভোর থেকেই হ্রদে পুরোদমে মাছ শিকার শুরু হয়।