দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম কৃত্রিম জলাধার কাপ্তাই হ্রদে দীর্ঘ ১০৫ দিন নিষেধাজ্ঞা শেষে আজ মধ্যরাত থেকে মাছ ধরা শুরু হয়েছে। ৭২৫ বর্গকিলোমিটার বিশাল জলরাশিতে জেলেদের জাল ফেলা ও ট্রলারের চলাচলে মুখর রয়েছে চারপাশ।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ভোর থেকে রাঙামাটির বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) ফিশারি ঘাটে মাছভর্তি শত শত ট্রলার ভিড়তে শুরু করে। প্রথম দিনে চাপিলা ও কাচকি মাছের সরবরাহ বেশি থাকলেও পানি কমলে বড় মাছের সরবরাহ বাড়বে বলে ব্যবসায়ীরা আশা করছেন।
বিএফডিসি সূত্রে জানা গেছে, গত মৌসুমে কাপ্তাই হ্রদ থেকে প্রায় ১০ হাজার মেট্রিক টন মাছ আহরণ করা হয়। এতে রাজস্ব আয় হয় ২২ কোটি ৬০ লাখ টাকা, যা ছিল অতীতের রেকর্ড। এবার সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ার আশা রাখছে বিএফডিসি।
দীর্ঘদিন মাছ ধরা না থাকায় জেলেরা খুশি। জেলে বাসু দাস বলেন, ‘বন্ধকালীন সময়ে বেকার বসে থাকতে হয়েছে। এখন আবার মাছ ধরতে পারায় ভালো লাগছে। মাছ ধরা শুরু হওয়ায় পরিবারের আর্থিক অবস্থাও ভালো হবে বলে আশা করছি।’
ব্যবায়ী মো. পান্না মিয়া বলেন, ‘প্রথম দিনেই ভালো পরিমাণ মাছ এসেছে। তবে মাছের আকার কিছুটা ছোট। কার্পজাতীয় মাছের সরবরাহও কম। আশা করছি, দিন যত যাবে মাছের পরিমাণও বাড়বে। আমরাও ভালো ব্যবসা করতে পারব।’
রাঙামাটি বিএফডিসির ব্যবস্থাপক কমান্ডার মো. ফয়েজ আল করিম বলেন, ‘দীর্ঘ ১০৫ দিন মাছ ধরা বন্ধ থাকায় হ্রদে মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ও বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হয়েছে। প্রথম দিনের মাছের সরবরাহ ও স্থানীয়দের উদ্দীপনা দেখে মনে হচ্ছে, এবার মাছ অবতরণ ও রাজস্ব আদায়ে অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’