সংস্কারকাজ এবং সড়কের খানাখন্দের কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন দূরপাল্লার যাত্রী, চালক ও পরিবহন শ্রমিকরা।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল থেকে মহাসড়কের আমতলীসহ আলেখারচর থেকে সুয়াগাজী পর্যন্ত বিভিন্ন অংশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। মহাসড়কে চলাচলের এই দুরবস্থার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, পণ্যবাহী যানবাহন আটকে থাকায় সময় ও জ্বালানি অপচয়ের পাশাপাশি ব্যবসায়ীরাও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
এর আগে গত শুক্রবার সকালে একই এলাকায় প্রায় ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছিল। বিকেলের দিকে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও শনিবার সকাল থেকে আবারও যানজট শুরু হয়। কয়েক দিনের ব্যবধানে মঙ্গলবার সকালে ফের এই পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় ভোগান্তি আরও বেড়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, আমতলী এলাকায় মহাসড়কের এক পাশ বন্ধ রেখে অপর পাশ দিয়ে উভয়মুখী যানবাহন চলাচল করছে। দীর্ঘদিন ধরে চলমান সংস্কারকাজের কারণে ওই অংশে যানবাহনের গতি এমনিতেই কম। এর সাথে সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে বিকল্প লেনের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। কোথাও কোথাও গর্তে পানি জমে থাকায় যানবাহনগুলোকে অত্যন্ত ধীরগতিতে চলতে হচ্ছে।
হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আমতলীর প্রায় আধা কিলোমিটার অংশে কয়েক মাস ধরে সংস্কারকাজ চলছে। এক পাশ বন্ধ থাকায় অপর পাশের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত অংশে ভারী যানবাহন চলাচলের সময় গর্তে আটকে পড়ার ঘটনা ঘটছে, যার ফলে দ্রুত দীর্ঘ যানজট তৈরি হচ্ছে। গত দুই দিনে ওই এলাকায় একাধিক মালবাহী ট্রাক খানাখন্দে আটকে পড়ায় সেগুলো সরিয়ে নিতে সময় লেগেছে, যা যানজটকে আরও দীর্ঘায়িত করেছে। বিশেষ করে আমতলী এলাকায় যানবাহনের চাপ বাড়লে পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে পড়ে বলে জানিয়েছে হাইওয়ে পুলিশ।
মহাসড়কে নিয়মিত চলাচলকারী চালকদের অভিযোগ, সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত মেরামত না করায় প্রতিদিনই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এতে সময় ও জ্বালানি অপচয়ের পাশাপাশি পণ্য সময়মতো গন্তব্যে না পৌঁছানোয় ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি জানিয়েছেন, শুধু গর্তে মাটি বা ইট ফেলে সাময়িক মেরামত করলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না; বৃষ্টির পানি ও ভারী যানবাহনের চাপে সড়ক আবারও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তাই দ্রুত টেকসই সংস্কার করে বিকল্প লেনটি উপযোগী করার দাবি জানান তারা।
ময়নামতি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মমিন বলেন, "ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক দ্রুত সংস্কারের জন্য সড়ক ও জনপথ বিভাগকে একাধিকবার জানানো হয়েছে। সড়কের খানাখন্দের কারণে যানবাহন ধীরগতিতে চলাচল করছে। এতে যানজট তৈরি হচ্ছে। দ্রুত সংস্কার করা না হলে সামনে আরও বড় ধরনের যানজটের আশঙ্কা রয়েছে।"
সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা বলেন, "যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে অস্থায়ীভাবে সংস্কারকাজ করা হচ্ছে। তবে ভারী বৃষ্টির কারণে কাজ কিছুটা ব্যাহত হয়েছে।"