দেশের স্বাস্থ্য খাতে গত ১৭ বছর ধরে ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে ব্যাপক লুটপাট চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় মানসম্মত ও সহজলভ্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে বলে জানান তিনি।
রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুরে ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আকস্মিক পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের সামনে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, খুব শীঘ্রই দেশে আরও চিকিৎসক এবং প্রায় এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ইতিমধ্যে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হয়েছে এবং নিকট ভবিষ্যতে উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে ১০ শয্যার ডায়ালাইসিস ইউনিট চালু করা হবে।
গত সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, "গত ১৭ বছরে স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে তেমন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।"
তবে বর্তমানে দেশের হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় ওষুধ, ভ্যাকসিন এবং পরিবার পরিকল্পনা সামগ্রীর পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।
পরিদর্শনকালে মন্ত্রী হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ও সেবাকেন্দ্র ঘুরে সার্বিক পরিবেশ এবং চিকিৎসাসেবার মান পর্যবেক্ষণ করেন। এসময় তিনি ভর্তি থাকা রোগীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের সুযোগ-সুবিধা ও বিদ্যমান সমস্যাগুলো সম্পর্কে খোঁজ নেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানান, উপজেলা পর্যায়ে আধুনিক প্যাথলজি ও ফিজিওথেরাপি সেবার পাশাপাশি ভবিষ্যতে ডায়ালাইসিস সুবিধাও সম্প্রসারণ করা হবে। এছাড়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও ইউনিয়ন পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রগুলোর সেবার মানোন্নয়নে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে এবং শিগগিরই স্বাস্থ্য কার্ড কার্যক্রম শুরু হবে।
এ সময় মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দবির উদ্দিন বিশ্বাস, সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. হেলেনা আক্তার নিপাসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।